সোনা কিনতে আগ্রহীদের জন্য মঙ্গলবার সকালেই এল স্বস্তির খবর। ২৫ অগাস্ট আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশের ফিউচার মার্কেটেও সোনা ও রুপোর দামে পতন দেখা গিয়েছে। MCX এ সোনার দাম ২৯৯ টাকা কমে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬২,৯৩০ টাকায় লেনদেন করছে। একই সময়ে রুপোর দামও ১,৬০৭ টাকা কমেছে। প্রতি কেজি রুপো ২,৪২,৬১৩ টাকায় ট্রেড করছে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও কমেছে সোনার দর
বিশ্ব বাজারেও এদিন সোনা ও রুপোর দামে সামান্য দুর্বলতা দেখা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ০.২০ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৮৭ ডলারে নেমেছে। রুপোর দামও ০.৯৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.৯০৫ ডলারে লেনদেন করছে।
তবে বাজারের নজর এখন আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের দিকে। বুধবার প্রকাশিত হতে চলেছে মার্কিন Personal Consumption Expenditures বা PCE ডেটা। মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ। ফলে এই তথ্য প্রকাশের পর সোনা ও রুপোর বাজারে নতুন করে ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
ফেডের চেয়ারের বক্তব্যেও নজর
PCE ডেটার পাশাপাশি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যের দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। সুদের হার এবং আগামী দিনে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতি কোন পথে এগোতে পারে, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলতে পারে।
সুদের হার কমার সম্ভাবনা তৈরি হলে সাধারণত সোনার মতো সুদ না দেওয়া সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ডলার শক্তিশালী হলে সোনার দামের উপর চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আগামী দিনের বাজারে মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য ও ফেডের নীতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
দেশের বাজারে ১ গ্রাম সোনার দাম
মঙ্গলবার ২৫ অগাস্ট দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার ১ গ্রামের দাম ১৫,২৮০ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১২,৫৪৫ টাকা প্রতি গ্রাম। অন্যদিকে, ১ কেজি রুপোর দাম ২,৪৪,০২৪ টাকা।
তবে গয়না বা অন্যান্য সোনার সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে এই বেস রেটের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ GST দিতে হবে। ফলে চূড়ান্ত কেনার দাম কিছুটা বেশি হবে।
কেন বাড়ছে সোনার প্রতি আগ্রহ
গত কয়েক বছরে সোনার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে শুধুমাত্র গয়না কেনার মাধ্যমেই নয়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সোনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বহু মানুষ। বাজারের অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সোনাকে তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন অনেক বিনিয়োগকারী।
সোনার দামে ফের উত্থান হবে কি
সোনার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রতি আউন্স ৪,৬০০ ডলারের উপরে কতটা স্থায়ী হতে পারে, তা নিয়ে এখন জোর আলোচনা চলছে। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, এর জন্য মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থান বজায় থাকা এবং ট্রেজারি ইয়িল্ড স্থিতিশীল থাকা বা আরও কমে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
গত সপ্তাহে মার্কিন ট্রেজারির বন্ড বাইব্যাক সংক্রান্ত পরিকল্পনার জেরে ডলারের উপর চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামও ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
Times of India এর রিপোর্ট অনুযায়ী, KCM Trade এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার মনে করছেন, সোনার বাজার মূলত দুর্বল ডলারের কাছ থেকেই ইতিবাচক সংকেত পাচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চ ট্রেজারি ইয়িল্ড থেকে অর্থনীতির উপর চাপ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার ইঙ্গিতও মিলছে।
মার্কিন ট্রেজারির দীর্ঘমেয়াদি বন্ড কেনার পরিকল্পনাকে ঘিরে মুদ্রা ও বন্ড বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব আগামী দিনে সোনার বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
ফলে মঙ্গলবার সোনা ও রুপোর দামে পতন দেখা গেলেও আগামী দিনে মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্য, ডলারের গতিবিধি, ট্রেজারি ইয়িল্ড এবং ফেডের সুদের হার সংক্রান্ত অবস্থানই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দামের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।







