বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মাঝেই এবার বড় পতন দেখা গেল সোনার দামে। দীর্ঘদিন ধরে দামের ঊর্ধ্বগতি থাকার পর হঠাৎই ১০ গ্রামে ১.৬০ লক্ষ টাকার নিচে নেমে এসেছে সোনার বাজারদর। ফলে অনেকেই এখন ভাবছেন, এই সময় সোনা কেনা কি লাভজনক হতে পারে।
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সোনার দাম কমে প্রায় ১,৫৮,৪০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রামে এসে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। COMEX বাজারে সোনার দাম বর্তমানে প্রতি আউন্স প্রায় ৫,১২০ ডলার এর আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।
কেন কমছে সোনার দাম
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে সোনার দামে এই পতন দেখা যাচ্ছে।
প্রথমত, শক্তিশালী মার্কিন ডলার সোনার দামের উপর চাপ তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে ডলারের মূল্য বেড়েছে।
দ্বিতীয়ত, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড প্রায় ৪.২৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বন্ডের মুনাফা বাড়লে অনেক বিনিয়োগকারী সোনার পরিবর্তে সেখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।
তৃতীয়ত, সুদের হার কমার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর ফলে বিনিয়োগকারীরা বাজারে খুব সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার প্রভাব সোনার দামের উপরও পড়ছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকতে পারে।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, দাম বাড়লে বিক্রি করার কৌশল এখন অনেক বিনিয়োগকারী অনুসরণ করছেন। তবে যদি সোনার দাম ১,৫৮,০০০ টাকার উপরে স্থির থাকে, তাহলে তা আবার ১,৬২,০০০ থেকে ১,৬৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, যদি দাম ১,৫৭,০০০ টাকার নিচে নেমে যায়, তাহলে তা আরও কমে ১,৫০,০০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে সোনাকে এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেই দেখা হয়।







