মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এক বড় সিদ্ধান্ত নিল কাতার। আর সেই সিদ্ধান্তেই এশিয়ার একাধিক দেশে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা।
Energy crisis Pakistan Bangladesh: সম্প্রতি কাতার LNG উৎপাদন ও সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। কারণ এই দুই দেশই কাতারের গ্যাস সরবরাহের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলিয়ে পাকিস্তানের মোট LNG আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ সরবরাহ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা প্রায় ৭২ শতাংশ।
এশিয়া কাতারের LNG রপ্তানির প্রধান বাজার। মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ এই অঞ্চলের দেশগুলিতে যায়। ফলে সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় গোটা অঞ্চলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশটি দৈনিক প্রায় ১৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতির মুখে রয়েছে। এই অবস্থায় কাতারের সরবরাহ বন্ধ হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পক্ষেত্রে বড় চাপ তৈরি হতে পারে।
সরকারি সংস্থা পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে গ্রীষ্মের সময় বিদ্যুৎ সংকট আরও বাড়তে পারে। সেই কারণে স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত LNG কেনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যদিও তার দাম অনেক বেশি হতে পারে।
পাকিস্তানেও একই ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
এদিকে জ্বালানি সরবরাহে এই অস্থিরতার প্রভাব ভারতেও পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে LNG সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই কিছু ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহে কাটছাঁটের খবর সামনে এসেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, শিল্প এবং শহুরে গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলির জন্য সরবরাহে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতি দেখা দিতে পারে। ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।






