Election Commission to WB : সবকিছু ঠিকঠাক চলছে—এমনটাই দাবি ছিল রাজ্যের। কিন্তু হঠাৎই বদলে গেল পরিস্থিতি।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে কড়া চিঠি পাঠাল কমিশন। চিঠিতে একাধিক ক্ষেত্রে কমিশনের নির্দেশ মানা হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত কাজে গাফিলতির জন্য বেশ কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি এখনও। এই বিষয়টি নিয়েই রাজ্য সরকারকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বসিরহাট ২ ব্লকের বিডিও ও এইআরও সুমিত্র প্রতিম প্রধানকে এখনও বরখাস্ত করা হয়নি। কমিশনের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এসআইআরে অতিরিক্ত আধিকারিক নিয়োগ করেছিলেন তিনি।
এছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এসডিও বা এসডিএম স্তরের আধিকারিকদের ইআরও এবং রিটার্নিং অফিসার হিসেবে সঠিকভাবে নিয়োগ করা হয়নি। এই বিষয়টি আদালতে কমিশনের আগের যুক্তিকেই আরও শক্তিশালী করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ভিনরাজ্য থেকে মাইক্রো অবজারভার আনা হচ্ছে। কমিশনের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, রাজ্যের কাছ থেকে পর্যাপ্ত আধিকারিক না পাওয়ায় বাইরে থেকে আনতে হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পরেও তিনজন ইলেক্টোরাল রোল অবজারভারের বদলি বাতিল করা হয়নি। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে কমিশন রাজ্য সরকারকে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে।
বিকেল ৩টার মধ্যে সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অসমে এসআইআর না হলেও কেন ২৪ বছর পর বাংলায় এসআইআর হচ্ছে।
এই আবহে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া চিঠি রাজ্য-কমিশন সংঘাতকে আরও তীব্র করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।






