দেশজুড়ে E20 পেট্রলের ব্যবহার বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের অধিকাংশ পেট্রলচালিত গাড়ি এই জ্বালানির উপযোগী করে তৈরি হলেও, পুরনো গাড়ির মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন একটাই, দীর্ঘদিনের গাড়িতে নিয়মিত E20 ব্যবহার করলে আদৌ কোনও সমস্যা হতে পারে কি?
E20 পেট্রল বলতে এমন জ্বালানিকে বোঝায়, যাতে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রল থাকে। একবার ভুল করে বা প্রয়োজনের কারণে পুরনো গাড়িতে E20 ভরে ফেললেই সাধারণত বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। মূল উদ্বেগ তৈরি হয় দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত এই জ্বালানি ব্যবহার করলে।
পুরনো গাড়ির কোন অংশে সমস্যা হতে পারে?
পুরনো গাড়ির ফুয়েল সিস্টেমে ব্যবহৃত রাবার ও প্লাস্টিকের কিছু যন্ত্রাংশ সবসময় বেশি মাত্রার ইথানল সহ্য করার মতো করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন E20 ব্যবহারের ফলে ফুয়েল হোস, O-ring এবং বিভিন্ন সিল ধীরে ধীরে শক্ত বা ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। কোনও ক্ষেত্রে ফাটল তৈরি হয়ে জ্বালানি লিক করার সম্ভাবনাও থাকে।
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়করিও জানিয়েছিলেন, E20 পেট্রল পুরনো BS-3 এবং তার আগের গাড়ির রাবারের যন্ত্রাংশে প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থাৎ, পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় তাৎক্ষণিক ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ফুয়েল সিস্টেমের বিভিন্ন উপাদানের ক্ষয়।
মাইলেজ কি কমবে?
E20 নিয়ে গাড়ির মালিকদের আরেকটি বড় প্রশ্ন মাইলেজ। ইথানলের শক্তি সাধারণ পেট্রলের তুলনায় কম হওয়ায় E20 ব্যবহারে কিছু গাড়িতে জ্বালানি দক্ষতা সামান্য কমতে পারে।
তবে এই পরিবর্তন সাধারণত খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। গাড়ির মডেল, ইঞ্জিনের প্রযুক্তি এবং ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী পার্থক্যও আলাদা হতে পারে।
গাড়ি চালাতে গিয়ে কী কী পরিবর্তন বুঝতে পারেন?
পুরনো গাড়িতে দীর্ঘদিন E20 ব্যবহারের পর কিছু চালক ইঞ্জিনের পারফরম্যান্সে সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন। যেমন ইঞ্জিনে হালকা ঝাঁকুনি, গাড়ির গতি বাড়াতে কিছুটা সমস্যা বা আগের তুলনায় পারফরম্যান্স কম মনে হওয়া।
তবে এমন সমস্যা দেখা দিলেই যে E20-ই তার একমাত্র কারণ, তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। গাড়ির বয়স, রক্ষণাবেক্ষণ, ইঞ্জিনের অবস্থা এবং ফুয়েল সিস্টেমের অন্যান্য সমস্যাও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
ইতিমধ্যেই E20 ভরে ফেলেছেন? কী করবেন?
এক্ষেত্রে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। পুরনো গাড়িতে একবার E20 পেট্রল ভরে ফেললে সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে ট্যাঙ্ক খালি করে ফেলার প্রয়োজন হয় না। স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালিয়ে সেই জ্বালানি ব্যবহার করে শেষ করা যেতে পারে।
তবে গাড়িতে অস্বাভাবিক শব্দ, ইঞ্জিনে ঝাঁকুনি, জ্বালানি লিক বা পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত সার্ভিস সেন্টারে দেখানো উচিত।
আপনার গাড়ি E20 সমর্থন করে কি না জানবেন কী ভাবে?
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হল গাড়ির মালিকের ম্যানুয়াল পরীক্ষা করা। সেখানে E20 বা ethanol-blended fuel নিয়ে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা দেওয়া থাকতে পারে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ি প্রস্তুতকারকের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া যায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাজারে আসা বহু পেট্রল গাড়ি E20 জ্বালানি ব্যবহারের কথা মাথায় রেখেই তৈরি বা আপডেট করা হয়েছে। কিন্তু অনেক পুরনো মডেলের ক্ষেত্রে বিষয়টি একই নয়।
তাই শুধু গাড়ি পুরনো বলেই E20 নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার গাড়িটি E20-compatible কি না না জেনে দীর্ঘদিন নিয়মিত ব্যবহার করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। গাড়ির নির্দিষ্ট মডেল ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।







