পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির প্রভাব আবারও পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি ভেঙে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতেই হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ফলে ভারতেও পেট্রোল ও ডিজেলের দামের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বাজারের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ৬ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সেই বৃদ্ধি প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে ব্যারেল প্রতি দাম ৭২ ডলারের নিচে ছিল, সেখানে এখন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৮.৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ট্রেডিং চলাকালীন তা ৮০ ডলারও ছুঁয়েছিল। একই সঙ্গে আমেরিকার ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমুখী থাকে, তাহলে খুচরো জ্বালানির দাম নিয়ে সরকার ও তেল বিপণন সংস্থাগুলি বিবেচনা করতে পারে। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সেই সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, ২৫ মে থেকে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তার আগে তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা বাড়িয়েছিল।
এর আগেও ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেই সময় দীর্ঘদিন খুচরো জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে তেল বিপণন সংস্থাগুলি বড় অঙ্কের লোকসান বহন করেছিল। পরে সেই ক্ষতি সামাল দিতেই জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা দীর্ঘমেয়াদে ভারতের জ্বালানির দামের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সরকার, তেল সংস্থা এবং সাধারণ গ্রাহকদের।






