পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে কয়েক মাস আগে দেশে বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহে যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল, তা থেকে অবশেষে মুক্তি মিলল। শিল্প ও ব্যবসায়িক মহলের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা দিয়ে এলপিজি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর এলপিজি আমদানিতে চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রে সরবরাহ সীমিত করা হয়। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন উৎপাদনকারী সংস্থা সমস্যার মুখে পড়েছিল।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিকল্প উৎস থেকে আমদানি স্বাভাবিক হওয়ায় এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। সেই কারণেই পুরনো বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেট্রোলিয়াম সচিব ড. নীরজ মিত্তল ইতিমধ্যেই রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নতুন নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের উপর আর কোনও ক্ষেত্রভিত্তিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না। ডিলার এবং ডিস্ট্রিবিউটররা আগের মতোই শতভাগ সরবরাহ পুনরায় চালু করতে পারবেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে হোটেল, রেস্তোরাঁ, ধাবা, হাসপাতাল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটগুলির উপর, যাদের দৈনন্দিন কাজের বড় অংশই এই ধরনের সিলিন্ডারের উপর নির্ভরশীল।
শুধু সিলিন্ডার নয়, বড় শিল্প সংস্থাগুলির জন্যও এসেছে স্বস্তির খবর। সংকটের সময় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া বাল্ক এলপিজি সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি এখন সংকট-পূর্ব ব্যবহারের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাল্ক এলপিজি পেতে পারবে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
তবে কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গৃহস্থালির ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি সরবরাহে কোনও পরিবর্তন হবে না। সাধারণ পরিবারের জন্য রান্নার গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বজায় থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় জ্বালানি খরচের চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলিও আগামী দিনে কার্যক্রম পরিচালনায় আরও স্বস্তি পাবে।






