India China Trade : একদিকে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি, অন্যদিকে চিনের বড় কূটনৈতিক বার্তা—দুই শক্তির মাঝখানে ভারতের অবস্থান ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু।
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। ঠিক এই সময়েই ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে বড় দাবি করলেন চিনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, ভারতকে বাণিজ্যিকভাবে কাছে রাখতে আগ্রহী বেজিং।
চিনা রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে চিনে ভারতের রফতানি বেড়েছে ৯.৭ শতাংশ।
চিনা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরেন জু ফেইহং। তিনি জানান, ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বকে সমর্থন করে চিন এবং ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে বহুপাক্ষিক সমন্বয় আরও জোরদার করতে চায় বেজিং।
গ্লোবাল সাউথের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ভারত ও চিন একসঙ্গে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর মতে, গত বছর তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতির পথে।
জু ফেইহংয়ের বক্তব্যে উঠে আসে, ভারত ও চিনের সম্পর্ক কার্যত ‘রিসেট’ হয়েছে। গালওয়ান সংঘর্ষের পর দীর্ঘদিনের টানাপড়েন কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক হচ্ছে বাণিজ্যিক সম্পর্ক।
এর মধ্যেই বহু বছর পর চালু হয়েছে ভারত-চিন উড়ান পরিষেবা। ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে একাধিক পণ্যের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে চিন। এই ঘনিষ্ঠতায় অস্বস্তি বেড়েছে আমেরিকায় বলেই কূটনৈতিক মহলের ধারণা।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য দ্বন্দ্ব প্রায় মিটে যাওয়ার পথে, স্বাক্ষরিত হতে চলেছে চুক্তি। ফলে ভারত আবার চিন থেকে কিছুটা দূরে সরে যাবে কি না, তা নিয়েই নতুন করে চিন্তায় পড়তে পারে বেজিং।
এই প্রেক্ষাপটে ভারত-চিন বাণিজ্য নিয়ে চিনা দূতের রেকর্ডের দাবি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।






