ডিজিটাল লেনদেনের যুগে নগদের ব্যবহার অনেকটাই কমেছে। তবুও জরুরি পরিস্থিতির কথা ভেবে অনেকেই বাড়িতে কিছু টাকা নগদ রাখেন। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, বাড়িতে নগদ টাকা রাখার কোনও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে কি? বেশি টাকা রাখলে কি আয়কর দফতরের সমস্যায় পড়তে হতে পারে?
আয়কর দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, বাড়িতে কত টাকা নগদ রাখা যাবে, তার কোনও নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়নি। অর্থাৎ, আইন অনুযায়ী আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী যত খুশি নগদ টাকা বাড়িতে রাখতে পারেন। শুধুমাত্র বেশি নগদ রাখার জন্য কোনও ব্যক্তি অপরাধী হয়ে যান না।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আপনার কাছে থাকা নগদ অর্থের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ও বৈধ প্রমাণ থাকতে হবে। অর্থাৎ, ওই টাকা কোথা থেকে এসেছে, প্রয়োজনে তার ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হতে হবে।
কোন কোন নথি কাজে আসতে পারে?
যদি কোনও সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে টাকা পেয়ে থাকেন, তাহলে সেই সংক্রান্ত দলিল বা নথি সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। একইভাবে বেতন, ব্যবসার আয় বা অন্য কোনও বৈধ উৎস থেকে পাওয়া অর্থের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় নথি রাখা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দিলে সেই নথিও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে।
প্রমাণ দেখাতে না পারলে কী হতে পারে?
যদি কোনও তদন্তে আপনার বাড়ি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয় এবং তার বৈধ উৎসের প্রমাণ দিতে না পারেন, তাহলে আয়কর দফতর তদন্ত শুরু করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে জরিমানা, আইনি ব্যবস্থা বা প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ওই নগদ অর্থকে অঘোষিত আয় হিসেবেও গণ্য করা হতে পারে।
তাই বাড়িতে নগদ অর্থ রাখা আইনবিরোধী নয়। তবে সেই অর্থের উৎস সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভবিষ্যতে আয়কর বা আইনি জটিলতার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।






