বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত দিনে দেশজুড়ে নজর সংসদের দিকে। রবিবার সকালেই বাজেট পেশ শুরু হতেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা সামনে আসে।
Budget 2026 Live আপডেট অনুযায়ী, আয়কর কাঠামোতে কোনও পরিবর্তন আনেনি কেন্দ্রীয় সরকার। মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীদের মধ্যে আয়করে অতিরিক্ত ছাড়ের প্রত্যাশা থাকলেও কর স্ল্যাব অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে পুরনো ও নতুন—দু’টি কর ব্যবস্থাই আগের মতোই বহাল থাকছে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বড় স্বস্তির খবর। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উপর আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। এর ফলে ক্যানসার চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ রোগী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমাবে।
পরিকাঠামো উন্নয়নে পূর্ব ভারতের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে কেন্দ্র। শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী হয়ে দিল্লি পর্যন্ত একটি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে। এই রেল করিডর কার্যকর হলে উত্তরবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ ও রাজধানী দিল্লির মধ্যে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমবে।
শিল্প ও বাণিজ্যের সুবিধার জন্য ডানকুনি থেকে সুরাত পর্যন্ত একটি নতুন ফ্রেট করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে বাজেটে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট-সহ একাধিক রাজ্যে পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
১লা ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশের রীতি চালু হওয়ার পর এই প্রথম রবিবার বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী 0। টানা নবমবার বাজেট পেশ করে তিনি নতুন রেকর্ড গড়লেন। বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতার আবহে শিল্পমহলের প্রত্যাশাও ছিল প্রবল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। এই পরিস্থিতিতে কেউ পোশাক শিল্পে কর ছাড়, কেউ আবার সোনা ও রুপোর উপর কর কমানোর দাবি তুলেছিলেন। যদিও এবারের বাজেটে এই বিষয়ে সরাসরি বড় কোনও ঘোষণা হয়নি।
প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য বাজেটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে এবং সেখানে বাধ্যতামূলক TDS প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি ছোট করদাতাদের জন্য বিদেশে থাকা সম্পদ ঘোষণার একটি নতুন স্কিম চালু করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় সুখবর এসেছে NRI-দের জন্য। ভারতীয় সংস্থাকে মূলধন পণ্য সরবরাহ করলে প্রবাসী ভারতীয়রা টানা ৫ বছরের জন্য আয়কর ছাড় পাবেন বলে বাজেটে জানানো হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—এই বাজেট কি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে? মধ্যবিত্ত থেকে শিল্পপতি, প্রবাসী ভারতীয় থেকে রোগী—সব স্তরের মানুষের উপর এই সিদ্ধান্তগুলির বাস্তব প্রভাবই দেবে সেই উত্তর। সরকারের এই বাজেট আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিকে কোন পথে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন নজর।





