বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্রিটিশ সংসদে উদ্বেগ: বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, খুন এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিষয়টি এবার সরাসরি আলোচনায় তুললেন ব্রিটেনের কনজারভেটিভ দলের সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান। লন্ডনের পার্লামেন্টে তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কড়া ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ব্ল্যাকম্যান পরিষ্কারভাবে জানান, বাংলাদেশে যেভাবে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ চলছে, তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তিত। তাঁর মতে, দেশটিতে সংখ্যালঘুরা রাস্তায় খুন হচ্ছেন, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, একের পর এক মন্দির ভাঙা হচ্ছে। শুধু হিন্দুরাই নন, অন্যান্য সংখ্যালঘুরাও একই ধরনের সহিংসতার শিকার। এসব ঘটনা বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুয়ের ওপরই প্রশ্ন তুলছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামনের মাসে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলি গণভোটের ডাক দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের সংবিধানে স্থায়ী পরিবর্তন আনা। এই পরিস্থিতিতে তিনি চান ব্রিটিশ সরকার দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করুক।
ব্ল্যাকম্যানের বক্তব্যের জবাবে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি জানান, মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে লন্ডন এবং ইউনুস সরকারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
চলতি মাসে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার হালচিত্র
বাংলাদেশে জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই একাধিক নৃশংস ঘটনার শিকার হয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তথ্য বলছে, ২ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় নয়জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছে। তা ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হামলা, জমি দখলসহ নানা অপরাধ ঘন ঘন ঘটছে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
১, ফেনিতে অটোচালক সমীরকুমার দাস খুন।
২, সিলেটে জয় মহাপাত্র খুন।
৩, নরসিংদীতে মুদি দোকানি শরৎ চক্রবর্তীকে ধারালো অস্ত্রে হত্যা।
৪, যশোরে ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিক রানাপ্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা।
৫, ঢাকার আশেপাশে একাধিক হামলার ঘটনায় কয়েকজন গুরুতর আহত।
৬, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঝিনাইদহ, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ধর্ষণের অভিযোগ।
এছাড়া ৩১ ডিসেম্বর আক্রান্ত খোকন চন্দ্র দাস আহত অবস্থায় কয়েকদিন পর মারা যান। একই সময়ে শুভ পোদ্দার খুন হন। ডিসেম্বরেই দীপু চন্দ্র দাস এবং অমৃত মণ্ডলের হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।
মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণ
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদনে দেখা যায়, শুধু ডিসেম্বর মাসেই দেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের ওপর অন্তত একান্নটি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে দশটি হত্যা, একাধিক ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা, বহু বাড়ি দোকান মন্দিরে হামলা, ডাকাতি এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। এই সমস্ত ঘটনা মিলিয়ে স্পষ্ট, বাংলাদেশে বর্তমানে সংখ্যালঘুরা তীব্র নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
FAQs
১, ব্রিটিশ সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান ঠিক কী নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন?
তিনি বলেছেন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর খুন অগ্নিসংযোগ ও মন্দির ভাঙার মতো ঘটনা ঘটছে এবং ব্রিটিশ সরকারকে মানবাধিকার প্রসঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।
২, তিনি কেন বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গও তুলেছেন?
ব্ল্যাকম্যানের মতে বাংলাদেশে শিগগির নির্বাচন হওয়ার কথা কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ এবং কট্টরপন্থীরা গণভোটের ডাক দিয়েছে যা দেশের সংবিধান বদলে দিতে পারে তাই তিনি বিষয়টিকে গুরুতর বলেছেন।
৩, জানুয়ারি মাসে কতজন সংখ্যালঘু হিন্দু খুন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে?
চলতি জানুয়ারির শুরু থেকে প্রায় নয়জন হিন্দু খুন হওয়ার তথ্য বিভিন্ন সংবাদ ও মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে জানা গেছে।
৪, ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে লন্ডন এবং বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে।
৫, মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই ঘটনা কীভাবে মূল্যায়ন করছে?
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে ডিসেম্বর মাসেই একান্নটি হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে এবং শুধু হত্যাই নয় জমি দখল লুটপাট অগ্নিসংযোগ ধর্ষণ ও মন্দির ভাঙার অভিযোগও রয়েছে।






