এক মুহূর্তে থেমে গিয়েছিল এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল, মাত্র ১৯ বছর বয়সে পাঁচ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় বলিউডের উঠতি অভিনেত্রী দিব্যা ভারতী (Divya Bharti)-র। তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের সত্য আজও ধোঁয়াশায় ঢাকা।
ঘটনার সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন একাধিক অতিথি। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সাংবাদিক ট্রয় রিবেরিও (Troy Ribeiro), যিনি এই ঘটনার সাক্ষীও। তাঁর লেখা বইয়ে সেই রাতের একাধিক অজানা দিক উঠে এসেছে। তাঁর বর্ণনায়, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন দিব্যা। মদ্যপানও করেছিলেন। অতিথিদের থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে বারান্দায় একা সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি।
হঠাৎই পড়ে যাওয়ার শব্দ। তারপর ছুটে আসেন বাড়ির অন্যরা। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। ঠিক কী ঘটেছিল—পা পিছলে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, না কি অন্য কিছু—এই প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।
সেই রাতে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামী ফ্যাশন ডিজাইনার নীতু লুল্লা (Neeta Lulla)। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। অন্যদিকে, ট্রয়ের বইয়ে সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে অভিনেত্রীর পরিচারিকার নাম। দাবি করা হয়, মৃত্যুর আগে তিনিই শেষবার দিব্যাকে দেখেছিলেন। তবে তদন্তে সেই দিকটি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলেই অভিযোগ।
ঘটনার অভিঘাত ছিল গভীর। খবর পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন দিব্যার স্বামী Sajid Nadiadwala। অন্যদিকে হাসপাতালে পৌঁছে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। কান্নায় ভেঙে পড়ে দিব্যার বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে এসে স্তব্ধ হয়ে যান দিব্যার মা। পরিবারের ভিতরেও তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা, যার কারণ আজও অজানা।
এক রাত, এক পতন, আর অসংখ্য প্রশ্ন। সময় পেরিয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু দিব্যা ভারতী (Divya Bharti)-র মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য এখনও একই রকম ঘন। সত্যিটা কী ছিল, তার উত্তর হয়তো চিরকালই অধরা থেকে যাবে।







