গরম পড়লেই বাড়ে বিদ্যুতের বিল। আর সেই বাড়তি খরচ কমাতে এখন অনেকেই বেছে নিচ্ছেন BLDC ফ্যান। প্রচলিত সিলিং ফ্যানের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ হওয়ায় এই প্রযুক্তির ফ্যানের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। তবে শুধু সুবিধাই নয়, কেনার আগে এর কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জেনে রাখা জরুরি।
BLDC-এর পুরো নাম Brushless Direct Current। সাধারণ ফ্যান যেখানে চালাতে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ ওয়াট বিদ্যুৎ লাগে, সেখানে একটি BLDC ফ্যান চলতে পারে মাত্র ২৮ থেকে ৩৫ ওয়াট বিদ্যুতে। অর্থাৎ একই সময় ফ্যান চালিয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
কতটা কমতে পারে বিদ্যুৎ বিল?
গরমের সময় পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ বাড়িতে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ফ্যান চলে। সেই হিসেবে সাধারণ ফ্যানের বদলে BLDC ফ্যান ব্যবহার করলে একটি ফ্যান থেকেই মাসে প্রায় ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল কমতে পারে।
যদি বাড়িতে তিন বা চারটি ফ্যান থাকে, তাহলে মাসিক সাশ্রয় ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বছরে এক হাজার টাকারও বেশি সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে।
শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয়, আরও কী সুবিধা?
BLDC ফ্যানের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল এটি খুব কম শব্দ করে। এছাড়া অধিকাংশ মডেলে রিমোট কন্ট্রোলের সুবিধা থাকে, ফলে দূর থেকেই ফ্যান নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
লোডশেডিংয়ের সময় ইনভার্টারে দীর্ঘক্ষণ চলার ক্ষমতাও এই ফ্যানের বড় সুবিধা। কম বিদ্যুৎ খরচ হওয়ায় ব্যাটারির উপর চাপও কম পড়ে। অনেকের মতে, সাধারণ ফ্যানের তুলনায় এই ধরনের ফ্যানের মোটরের স্থায়িত্বও বেশি।
তবে কিছু অসুবিধাও রয়েছে
সব সুবিধার পাশাপাশি কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। BLDC ফ্যানের দাম সাধারণ সিলিং ফ্যানের তুলনায় বেশি। ফলে প্রথমে কিছুটা বেশি খরচ করতে হয়।
এছাড়া যন্ত্রে কোনও সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় মেকানিক দিয়ে সহজে মেরামত করা সম্ভব নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সার্ভিস সেন্টারে পাঠাতে হয়, আর সেই মেরামতের খরচও তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
তাই শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা ভেবে নয়, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, বাজেট এবং সার্ভিস সুবিধা বিবেচনা করেই BLDC ফ্যান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।






