ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য শুধু সঞ্চয় করলেই হয় না, সেই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ার বাজারে ওঠানামা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই নিশ্চিত রিটার্নের বিকল্প খুঁজছেন। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকারের ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলি আবারও বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি আকর্ষণীয় সুদও মিলছে এই প্রকল্পগুলিতে।
জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬ ত্রৈমাসিকের জন্য ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হারে কোনও পরিবর্তন করেনি কেন্দ্র। ফলে আগের মতোই একাধিক সরকারি প্রকল্পে ভালো রিটার্নের সুযোগ থাকছে।
দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য এখনও জনপ্রিয় পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF)। এই প্রকল্পে বর্তমানে বার্ষিক ৭.১ শতাংশ হারে সুদ মিলছে। ১৫ বছরের এই প্রকল্পে পুরনো কর ব্যবস্থার আওতায় ৮০সি ধারায় করছাড়ের সুবিধা রয়েছে। শুধু তাই নয়, সুদ এবং মেয়াদ শেষে পাওয়া অর্থও করমুক্ত।
কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চাইলে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (SSY) অন্যতম সেরা বিকল্প। বর্তমানে এই প্রকল্পে ৮.২ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারি ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। ১০ বছরের কম বয়সি কন্যার নামে এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।
নিশ্চিত রিটার্নের জন্য কিষাণ বিকাশ পত্র (KVP)-ও অনেকের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে এতে ৭.৫ শতাংশ সুদ মিলছে। এই হারে বিনিয়োগ করা অর্থ ১১৫ মাসে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
পোস্ট অফিসের ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (NSC)-তেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। পাঁচ বছরের এই প্রকল্পে বর্তমানে ৭.৭ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়। পাশাপাশি ৮০সি ধারায় করছাড়ের সুবিধাও রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সিনিয়র সিটিজেনস সেভিংস স্কিম (SCSS) অন্যতম আকর্ষণীয় বিকল্প। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য চালু এই প্রকল্পে বছরে ৮.২ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত আয়ের সুযোগ থাকায় প্রবীণদের কাছে এটি বিশেষ জনপ্রিয়।
অন্যদিকে, যারা ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের মতো নিরাপদ বিনিয়োগ চান, তাঁদের জন্য রয়েছে পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট। বর্তমানে এক বছরের জন্য ৬.৯ শতাংশ, দুই বছরের জন্য ৭ শতাংশ, তিন বছরের জন্য ৭.১ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের জন্য ৭.৫ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ বছরের টাইম ডিপোজিটে ৮০সি ধারায় করছাড়ের সুবিধাও রয়েছে।
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন প্রকল্প আপনার জন্য উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে আর্থিক লক্ষ্য, বিনিয়োগের সময়কাল এবং কর পরিকল্পনার উপর। তাই টাকা বিনিয়োগের আগে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।






