বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিধনের প্রতিবাদে গর্জে উঠবে আমেরিকান হিন্দুরাঃ ক্ষমতায় আসার আগে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকবার মন খারাপের কথা বলেছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের দিওয়ালি উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশি হিন্দুদের দুরবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেই ইস্যুতে তাঁর আগের মত মনোযোগ আর দেখা যাচ্ছে না। এখন এই প্রশ্নে তিনি নীরব থাকছেন অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বর্তমানে অনেকটা মাখামাখি বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সময়েই ট্রাম্পের নিজের দেশেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে বৃহত্তর হিন্দু সমাজ একজোট হচ্ছে। আগামী ৩১ জুলাই আমেরিকার বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা হত্যাকাণ্ড ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হবে।
নিউইয়র্ক, আলবাকার্কি, সিয়েটল, ফিনিক্স, লস অ্যাঞ্জেলস, ডেট্রয়েট, বস্টন, আটলান্টা, অস্টিন, হিউস্টন, শিকাগো, ডেনভার, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউজার্সি, মায়ামি, সিনসিনাটি, নিউ অর্লিন্স, ফিলাডেলফিয়া, শার্লট সহ বহু শহরে মার্কিন নাগরিক হিন্দুরা র্যালি ও সমাবেশে অংশ নেবেন। যারা শারীরিকভাবে যোগ দিতে পারবেন না তাঁদের অর্ধদিবস বা সারাদিন উপবাস করে সংহতি জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ততই বাড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক হত্যাকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের বিভিন্ন মহলকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তথ্য বলছে ২ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আট থেকে নয়জন হিন্দু খুন হয়েছেন।
ফেনিতে ১২ জানুয়ারি সমীরকুমার দাস, সিলেটে ১০ জানুয়ারি জয় মহাপাত্র, নরসিংদীতে মুদি দোকানি শরৎ চক্রবর্তী, মনি যশোরে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী রানাপ্রতাপ বৈরাগী সহ আরও কয়েকজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। কেউ ধারালো অস্ত্রে আক্রমণ কেউ গুলিবিদ্ধ আবার কেউ পালাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গত ডিসেম্বরেই দীপু চন্দ্র দাস ও অমৃত মণ্ডলকে হত্যা করা হয় সেসব ঘটনায় ভারতেও নানা জায়গায় প্রতিবাদ হয়েছিল।
এ ছাড়া সংখ্যালঘুদের বাড়ি ব্যবসা জমি এবং সম্পত্তির উপর হামলা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। কারও ধানক্ষেতে আগুন লাগানো হয়েছে। কোথাও ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ডাকাতিতে সোনা রুপো ও নগদ মালামাল লুটে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দাবি ডিসেম্বর মাসেই সংখ্যালঘুদের উপর অন্তত একান্নটি হামলা হয়েছে। শুধু হত্যা হয়েছে দশজন, এছাড়া বাড়িঘর দখল লুটপাট অগ্নিসংযোগ ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে নির্যাতন ধর্ষণ প্রচেষ্টা সহ নানা অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মার্কিন বিক্ষোভ সংখ্যালঘুদের প্রতি সেই সহমর্মিতা এবং বাংলাদেশের প্রতি এক বড় রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে।
FAQs
১, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়টি কেন আবার আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায়?
সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হত্যাকাণ্ড লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে এবং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
২, ৩১ জুলাই মার্কিন হিন্দু সমাজের বিক্ষোভের উদ্দেশ্য কী?
বাংলাদেশে চলমান সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো মানবাধিকার সংগঠন ও মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলা।
৩, কোন কোন শহরে প্রতিবাদ হওয়ার কথা?
নিউইয়র্ক ওয়াশিংটন ডিসি শিকাগো লস অ্যাঞ্জেলস হিউস্টন বস্টন আটলান্টা সিয়েটল মায়ামি সহ একাধিক বড় শহরে র্যালি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
৪, যারা শারীরিকভাবে বিক্ষোভে যোগ দিতে পারবেন না তাঁদের জন্য কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
যারা অংশ নিতে পারবেন না তাঁদের অর্ধদিবস বা সারাদিন উপবাস থেকে সংহতি জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
৫, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর প্রকৃতি কী রকম?
হত্যা ধর্ষণ লুটপাট অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর জমি দখল ও ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে নির্যাতন সহ নানাবিধ সহিংসতা নথিভুক্ত হয়েছে যা সংখ্যালঘু সমাজে নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।





