বার্ধক্যে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প হয়ে উঠেছে অটল পেনশন যোজনা (APY)। বিশেষ করে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত মানুষের জন্য চালু হওয়া এই প্রকল্পে ক্রমশ বাড়ছে অংশগ্রহণ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে নথিভুক্ত গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮.৯৬ কোটি, যা আগের অর্থবর্ষে ছিল ৭.৬১ কোটি। আগামী অর্থবর্ষের মধ্যেই এই সংখ্যা ১০ কোটির গণ্ডি ছাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PFRDA)-র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্পে ৬০ বছর বয়সের পর মাসিক নির্দিষ্ট পেনশন পাওয়া যায়। বর্তমানে মাসে ১,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত পেনশনের সুবিধা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে, ভবিষ্যতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে এই সর্বোচ্চ পেনশনের সীমা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পে যোগ দিতে হলে আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে একটি সক্রিয় সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। তবে ১ অক্টোবর ২০২২ থেকে কার্যকর হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, যাঁরা আয়কর দেন বা আয়কর রিটার্ন জমা করেন, তাঁরা নতুন করে এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারবেন না। যদিও ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ বা তার আগে যাঁরা অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়।
প্রকল্পে কত টাকা জমা দিতে হবে, তা নির্ভর করে আবেদনকারীর বয়স এবং তিনি কত টাকার মাসিক পেনশন বেছে নিচ্ছেন তার উপর। যেমন, ১৮ বছর বয়সে যোগ দিয়ে মাসে ১,০০০ টাকার পেনশন পেতে চাইলে প্রতি মাসে মাত্র ৪২ টাকা জমা দিলেই চলবে। আবার একই বয়সে ৫,০০০ টাকার পেনশন নিশ্চিত করতে মাসে ২১০ টাকা জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, ৪০ বছর বয়সে প্রকল্পে যোগ দিয়ে ৫,০০০ টাকার পেনশন পেতে চাইলে মাসিক অবদান হবে প্রায় ১,৪৫৪ টাকা।
অটল পেনশন যোজনার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, গ্রাহকের মৃত্যুর পর তাঁর জীবনসঙ্গী একই হারে পেনশন পেতে থাকবেন। পরে দু’জনেরই মৃত্যু হলে জমাকৃত অর্থ মনোনীত উত্তরাধিকারীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে নিকটবর্তী ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে গিয়ে নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল নম্বর, পরিচয়পত্রের বিবরণ এবং নমিনির তথ্য জমা দিতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে একটি স্থায়ী পেনশন অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হবে এবং প্রতি মাসে নির্ধারিত অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অটো-ডেবিটের মাধ্যমে কেটে নেওয়া হবে। তাই অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রাখা প্রয়োজন।






