অগস্ট মাসের শুরুতেই অন্নপূর্ণা যোজনার তৃতীয় কিস্তির ৩,০০০ টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে বলে আশা করেছিলেন বহু উপভোক্তা। কিন্তু ১ অগস্ট পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আপাতত চিন্তার কোনও কারণ নেই। নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ হলেই ধাপে ধাপে টাকা পাঠানো হবে।
জানা গিয়েছে, খুব অল্প সংখ্যক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে প্রথম দিনে টাকা পৌঁছতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এখনও ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে। সরকারি কর্মীরা আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য ও নথি যাচাই করছেন। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা পাঠানো হবে।
শুধু নতুন আবেদনকারী নন, যাঁরা আগের কিস্তিগুলির টাকা পেয়েছেন, তাঁদের তথ্যও ফের যাচাই করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। অনেকের বাড়িতে গিয়ে সরকারি কর্মীরা তথ্য মিলিয়ে দেখছেন। এই পুনরায় যাচাইয়ে যোগ্যতা বজায় থাকলে তবেই ভবিষ্যতের কিস্তির টাকা পাওয়া যাবে। অন্যথায় ওই আবেদন বাতিল হতে পারে।
এবার প্রথম দিনের মধ্যেই সকলের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত, গোটা অগস্ট মাস জুড়েই পর্যায়ক্রমে টাকা পাঠানো হতে পারে। যার নথি যাচাই আগে শেষ হবে, তাঁর অ্যাকাউন্টেই আগে টাকা পৌঁছবে।
অনেক আবেদন এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে, আবার কোথাও আবেদন পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়াও শুরু হবে না। তাই যোগ্য আবেদনকারীদের ধৈর্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, টাকা না পেলে বা নিজের আবেদন নিয়ে কোনও সমস্যা থাকলে সমাজকল্যাণ দপ্তরের হেল্পলাইন ১৮০০-৩৪৫-৫৫০৫ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আবেদন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে, আবেদনকারীদের জন্য আরও একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। ১ অগস্ট থেকে রাজ্যের সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টালে উপভোক্তাদের লগইন করার আলাদা উইন্ডো আর দেখা যাচ্ছে না। আগে আবেদনকারী ও সরকারি আধিকারিকদের জন্য পৃথক লগইন ব্যবস্থা থাকলেও এখন শুধুমাত্র আধিকারিকদের ব্যবহারের উইন্ডোটি দেখা যাচ্ছে। ফলে এই মুহূর্তে আবেদনকারীরা অনলাইনে নিজেদের আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস দেখতে পারছেন না। এতে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি তৈরি হলেও, সরকারিভাবে এই পরিবর্তনের কারণ এখনও জানানো হয়নি।






