কৃত্রিম মেধা এখন আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ। পড়াশোনা থেকে অফিসের কাজ, চিকিৎসা থেকে গবেষণা— সর্বত্র বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার। কিন্তু এই নির্ভরতা কি মানুষের নিজস্ব বিশ্লেষণ ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করছে? সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষার ফল সামনে আসতেই নতুন করে সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
চলতি বছরে পোল্যান্ডে চিকিৎসকদের নিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের প্রথমে কৃত্রিম মেধার সাহায্যে কোলোনোস্কপির ছবি বিশ্লেষণ করতে বলা হয়। কিছুদিন সেই প্রযুক্তি ব্যবহারের পর তাঁদের একই ধরনের ছবি এআই ছাড়া বিশ্লেষণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর সেখানেই ধরা পড়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
সমীক্ষকদের দাবি, এআই ব্যবহার না করে কোলোনোস্কপির ছবি সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে প্রথমে সক্ষম ছিলেন ২৮.৪ শতাংশ চিকিৎসক। কিন্তু এআই ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়ার পর সেই হার কমে দাঁড়ায় ২৪.৮ শতাংশে। অর্থাৎ, প্রযুক্তির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।
এই ধরনের প্রবণতা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, এআইকে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, কিন্তু মানুষের বিচারবুদ্ধির বিকল্প হিসেবে নয়।
এদিকে, কৃত্রিম মেধার দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখাতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত সরকার। সেই লক্ষ্যেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চালু করা হয়েছে ‘Yuva AI for All’ পোর্টাল। এই প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে এআইয়ের সঠিক ব্যবহার, সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, পোর্টালে অনলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু স্কুল বা কলেজের পড়ুয়াদের জন্যই নয়, দেশের যে কোনও নাগরিক এই কোর্সে অংশ নিয়ে কৃত্রিম মেধা ব্যবহারের মৌলিক ধারণা এবং দায়িত্বশীল প্রয়োগ সম্পর্কে জানতে পারবেন।






