আধার কার্ড এখন প্রায় প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি পরিষেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা, মোবাইল সিম, চাকরি কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি—সব ক্ষেত্রেই আধারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেকেই একবার আধার তৈরি করার পর আর সেটি আপডেট করেন না। ফলে পুরনো তথ্যই থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে নানা সমস্যার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত তথ্যের কোনও পরিবর্তন হলে দ্রুত আধার আপডেট করা উচিত। এতে বিভিন্ন পরিষেবা পেতে অযথা জটিলতার মুখে পড়তে হয় না।
কোন কোন ক্ষেত্রে আধার আপডেট করা জরুরি?
কেউ যদি নতুন বাড়িতে চলে যান বা স্থায়ী ঠিকানা বদল করেন, তাহলে আধারে নতুন ঠিকানা যোগ করা প্রয়োজন। ঠিকানা আপডেট না থাকলে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, ঋণের আবেদন বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সমস্যা হতে পারে।
আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর বদলে গেলে সেটিও দ্রুত সংশোধন করা উচিত। কারণ অধিকাংশ আধারভিত্তিক পরিষেবায় ওটিপি যাচাই বাধ্যতামূলক। পুরনো নম্বর থাকলে প্রয়োজনীয় ওটিপি পাওয়া সম্ভব হবে না।
আধার কার্ডে নিজের নাম, অভিভাবকের নাম বা জন্মতারিখে কোনও ভুল থাকলে সেটিও দ্রুত সংশোধন করে নেওয়া প্রয়োজন। এই ধরনের তথ্যগত ভুল ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ নথি যাচাইয়ের সময় সমস্যার কারণ হতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে বাল আধার তৈরি হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়োমেট্রিক তথ্য আপডেট করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর প্রাপ্তবয়স্কদেরও নির্দিষ্ট সময় অন্তর বায়োমেট্রিক তথ্য হালনাগাদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনেকের আধারে বহু বছরের পুরনো ছবি থাকে। যদি বর্তমান চেহারার সঙ্গে সেই ছবি আর না মেলে, তাহলে ছবিও পরিবর্তন করা যেতে পারে।
এছাড়া ব্যাঙ্কিং, টেলিকম বা অন্য কোনও পরিষেবায় ফেস অথেনটিকেশন বারবার ব্যর্থ হলে আধারের তথ্য ও বায়োমেট্রিক আপডেট করানো প্রয়োজন হতে পারে।
আধার আপডেটের জন্য সাধারণত আধার কার্ডের সঙ্গে পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জন্মতারিখের প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। প্রয়োজনীয় নথি আগে থেকেই প্রস্তুত থাকলে আপডেটের প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।






