উৎসব ও বিয়ের মরসুম শুরুর মুখেই সোনার গয়নায় হলমার্কিংয়ের খরচ বাড়াল ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস বা বিআইএস। নতুন নিয়মে সোনা দিয়ে তৈরি গয়না বা অন্যান্য সামগ্রী হলমার্কিং করাতে প্রতি সামগ্রীতে ৭৫ টাকা দিতে হবে। এত দিন এই খরচ ছিল ৪৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি সামগ্রীতে খরচ বেড়েছে ৩০ টাকা বা প্রায় ৬৭ শতাংশ। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত সংশোধিত প্রবিধান অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এই নতুন হার কার্যকর হয়েছে। তবে রুপোর সামগ্রীর হলমার্কিংয়ের খরচ ৩৫ টাকাতেই অপরিবর্তিত রয়েছে।
নতুন নিয়মে স্বীকৃত অ্যাসেয়িং অ্যান্ড হলমার্কিং সেন্টারে সোনার গয়না জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি সামগ্রীতে ৭৫ টাকা খরচ হবে। প্রতি চালানে ন্যূনতম ২০০ টাকার ফি অবশ্য আগের মতোই থাকছে। রুপোর ক্ষেত্রে প্রতি সামগ্রীতে ৩৫ টাকা এবং প্রতি চালানে ন্যূনতম ১৫০ টাকা দিতে হবে। হলমার্কিং কেন্দ্রগুলি সোনার ক্ষেত্রে প্রতি সামগ্রী বাবদ বিআইএসকে ৭.৫০ টাকা এবং রুপোর ক্ষেত্রে ৩.৫০ টাকা দেবে। এর সঙ্গে প্রযোজ্য কর আলাদা ভাবে যুক্ত হবে।
হলমার্কিংয়ের খরচ বাড়লেও তার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি গয়নার ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে অতিরিক্ত ৩০ টাকা নেওয়া হবে। এই খরচ মূলত গয়না ব্যবসায়ীদের হলমার্কিং কেন্দ্রকে দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা চাইলে বাড়তি খরচ নিজেরাই বহন করতে পারেন, আবার গয়নার মোট দামের সঙ্গে তা যুক্তও করতে পারেন। ফলে ক্রেতার উপর শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের উপর।
বিআইএসের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে গয়না শিল্পের একটি অংশ। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের তরফে দাবি করা হয়েছে, দেশে হলমার্কিং ব্যবস্থার যথেষ্ট প্রসার ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে খরচ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা এবং এর প্রভাব ক্রেতাদের উপর পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
হলমার্কিংয়ের খরচ বৃদ্ধির খবরের পর বুধবার বেশ কয়েকটি গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার শেয়ারে চাপ দেখা যায়। কল্যাণ জুয়েলার্স ইন্ডিয়া এবং পিসি জুয়েলারের শেয়ারের দর প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমে যায়। সদ্য তালিকাভুক্ত ললিতা জুয়েলারি মার্টের শেয়ারও ৫ শতাংশ কমে লোয়ার সার্কিটে পৌঁছয়।







