ভারতে আইফোন ১৮-র দাম এত বেশি কেন? ৩ লাখের ফোন ঘিরে উঠছে রুপির অবমূল্যায়নের প্রশ্ন

On: Monday, September 14, 2026 9:15 PM
---Advertisement---

উৎসবের মরসুমে ভারতের বাজারে হাজির হয়েছে আইফোনের নতুন ১৮ সিরিজ। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে প্রি বুকিং। আপাতত আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্সের মতো মডেল কেনার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। তবে নতুন সিরিজের দাম নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ একই ফোনের জন্য আমেরিকার তুলনায় ভারতের ক্রেতাদের অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

বিগত কয়েক বছর ধরেই ভারতে আইফোন তৈরি করছে অ্যাপ্‌ল। ফলে দেশে উৎপাদনের পর ফোনের দাম কিছুটা কমবে বলেই আশা করেছিলেন অনেক গ্রাহক। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং মার্কিন বাজারের সঙ্গে তুলনা করলে ভারতে আইফোনের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি।

দামের এই পার্থক্য বোঝা যায় আইফোন ১৮ প্রোয়ের ক্ষেত্রে। আমেরিকায় এই মডেলের দাম ১১৯৯ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় হিসাব করলে যা প্রায় ১.১৬ লক্ষ টাকার সমান। অথচ ভারতে একই মডেলের প্রাথমিক দাম প্রায় ১.৬৫ লক্ষ টাকা।

প্রযুক্তি মহলের একাংশের মতে, এর পিছনে অন্যতম কারণ ভারতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন। বর্তমানে এক ডলারের বিনিময়মূল্য প্রায় ৯৬ থেকে ৯৭ টাকা হলেও অ্যাপ্‌ল ভারতে আইফোনের দাম নির্ধারণের সময় আরও বেশি বিনিময়মূল্য ধরে হিসাব করছে।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের ক্ষেত্রে ডলার ও রুপির বিনিময়মূল্য ১৩৭ টাকা ধরে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী। এর ফলে ভারতে ফোনটির প্রাথমিক দাম পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকায়।

এখানেই শেষ নয়। অক্টোবর মাসে ভারতে ভাঁজ করা আইফোন আনার পরিকল্পনা রয়েছে অ্যাপ্‌লের। ‘আইফোন ডুয়ো’ নামে পরিচিত এই ডিভাইসের ক্ষেত্রে ডলার ও রুপির বিনিময়মূল্য ১৫০ টাকা ধরা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতে ফোনটির দাম প্রায় ৩ লক্ষ টাকা হতে পারে।

এই বিপুল দামের পার্থক্যকে কেন্দ্র করেই প্রশ্ন উঠছে, অ্যাপ্‌ল কি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি মাথায় রেখে ভারতে এত বেশি বিনিময়মূল্য ধরে ফোনের দাম নির্ধারণ করছে? যদিও শুধুমাত্র আইফোনের মূল্য নির্ধারণের ভিত্তিতে ভারতীয় রুপির ভবিষ্যৎ অবমূল্যায়নের কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া যায় না।

এদিকে নতুন ১৮ সিরিজ বাজারে এলেও আইফোন ১৭ এখনও বিক্রি বন্ধ করেনি অ্যাপ্‌ল। বরং পুরনো মডেলটির দাম ৮৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশের জোগান সংক্রান্ত সমস্যাকেও এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি মহলের অনেকে।

অর্থাৎ দেশে আইফোন উৎপাদন বাড়লেও আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময়মূল্য, উৎপাদন সংক্রান্ত খরচ এবং যন্ত্রাংশের বাজারদরের মতো একাধিক বিষয় ভারতে আইফোনের চূড়ান্ত দামে প্রভাব ফেলছে। ফলে বিদেশে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও ভারতের ক্রেতাদের জন্য অ্যাপ্‌লের প্রিমিয়াম ডিভাইস আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now