ইরান যুদ্ধের আঁচে অগাস্টে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি ৯.৯২ শতাংশ, উৎসবের আগে আরও চড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম

On: Monday, September 14, 2026 9:05 PM
---Advertisement---

ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতিতেও। আমদানি খরচ বাড়ায় চাপ তৈরি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। এর মধ্যেই অগস্টে দেশের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে ৯.৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। জুলাইতে এই হার ছিল ৯.৭৮ শতাংশ। মুদ্রাস্ফীতির এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি উৎসবের মরসুমের আগে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে।

কেন্দ্রের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়েছে। জুলাইতে খাদ্য সূচকের মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। অগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ৭.০৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। জুলাইতে এই খাতে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৮.২৯ শতাংশ। অগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩৭ শতাংশে। গত কয়েক মাস ধরে এই সূচকের বৃদ্ধিও অর্থনীতিবিদদের নজরে রয়েছে।

সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। অগস্টে এই ক্ষেত্রে পাইকারি মূল্যসূচক ২২.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, খনিজ তেল, খাদ্যপণ্য, মৌলিক ধাতু এবং রাসায়নিক দ্রব্যের আমদানি খরচ বৃদ্ধিই সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরো বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। জুলাইতে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৪.৪৫ শতাংশ। আমদানি ব্যয় আরও বাড়লে তার প্রভাব খুচরো বাজারেও পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে চাল, ডাল, তেল, নুনের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই চাপের অন্যতম কারণ। চলতি আর্থিক বছরের শুরু থেকেই ভারতের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলের গণ্ডি ছাড়িয়েছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী। ভারতের মতো বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এর প্রভাব সরাসরি অর্থনীতিতে পড়ে।

শুধু তেল নয়, সারের দাম বৃদ্ধিও খাদ্যপণ্যের দামের উপর চাপ বাড়াতে পারে। জ্বালানি ও উৎপাদন খরচ বাড়লে তার প্রভাব ধাপে ধাপে কৃষি উৎপাদন এবং শেষ পর্যন্ত খুচরো বাজারে পৌঁছতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

এর পাশাপাশি আবহাওয়ার প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। জুলাইয়ের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এর ফলে কৃষি উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হলে খাদ্যপণ্যের সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে। চলতি আর্থিক বছর ২০২৬ ২৭ সালে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আরবিআই।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম, আমদানি ব্যয় এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন, এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনে ভারতের মুদ্রাস্ফীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। উৎসবের মরসুমের আগে এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের খরচের উপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই নজরে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now