অবসরের পর মাসে ২০ হাজার টাকার বেশি নিশ্চিন্ত আয়! কীভাবে পাবেন পোস্ট অফিসের SCSS-এ?

On: Wednesday, September 9, 2026 10:31 PM
---Advertisement---

অবসরের পর নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা না থাকলে দৈনন্দিন খরচ চালানো অনেকের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে অবসরের পর নির্দিষ্ট আয়ের উৎস তৈরি করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই প্রবীণ নাগরিকদের জন্য পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম বা SCSS বেশ জনপ্রিয় একটি সঞ্চয় প্রকল্প।

কী এই সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম?
সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলির অন্যতম। তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুদ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এই প্রকল্পে। মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়েও অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। যোগ্য বিনিয়োগকারীরা আয়কর আইনের ৮০সি ধারার অধীনে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত করছাড়ের সুবিধাও পেতে পারেন।

SCSS-এর সাধারণ মেয়াদ ৫ বছর। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও ৩ বছরের জন্য অ্যাকাউন্ট বাড়ানো যায়।

কত টাকা বিনিয়োগ করা যায়?
এই প্রকল্পে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন। স্বামী ও স্ত্রী দু’জনের পৃথক যোগ্য অ্যাকাউন্ট থাকলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে পোস্ট অফিসের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার, বিনিয়োগের সীমা এবং অন্যান্য নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি নিয়ম অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত।

৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে কত সুদ?
ধরা যাক, কোনও দম্পতি মিলিয়ে SCSS-এ ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলেন এবং প্রযোজ্য বার্ষিক সুদের হার ৮.২ শতাংশ।

সে ক্ষেত্রে এক বছরে সুদের পরিমাণ হবে ৩০ লক্ষ টাকার ৮.২ শতাংশ, অর্থাৎ ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা।

SCSS-এ সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দেওয়া হয়। ফলে প্রতি তিন মাসে সুদ হিসেবে পাওয়া যেতে পারে প্রায় ৬১,৫০০ টাকা। মাসিক হিসাবে সেই অর্থকে ভাগ করলে গড়ে প্রায় ২০,৫০০ টাকা দাঁড়ায়।

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। এই টাকা প্রতি মাসে অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে না। সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দেওয়া হয়। অর্থাৎ বছরে চার দফায় সুদ পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

মেয়াদের আগে টাকা তুললে কী হবে?
SCSS-এ বিনিয়োগ করার আগে অর্থের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরিকল্পনা করে নেওয়া জরুরি। কারণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা বা সুদের ক্ষেত্রে আর্থিক সমন্বয় হতে পারে। ফলে আগাম টাকা তোলার প্রয়োজন হলে বিনিয়োগকারীকে প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলতে হবে।

অবসরের পর নিয়মিত আয়ের পাশাপাশি তুলনামূলক নিরাপদ জায়গায় সঞ্চয়ের সুযোগ খুঁজছেন এমন প্রবীণ নাগরিকদের জন্য SCSS একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে বর্তমান সুদের হার, সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা, কর সংক্রান্ত নিয়ম এবং আগাম অ্যাকাউন্ট বন্ধের শর্ত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now