পিঙ্ক কার্ড ছাড়া সরকারি বাসে ফ্রি যাত্রা নয়, মহিলাদের জন্য নতুন নিয়ম, কী ভাবে পাবেন কার্ড

On: Friday, August 28, 2026 10:28 PM
---Advertisement---

মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে এই উদ্যোগ। এতদিন পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাওয়া গেলেও এবার সেই সুবিধা পেতে পিঙ্ক কার্ডের প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ, আগামী দিনে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাত্রার ক্ষেত্রে এই কার্ডই গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মহিলা এবং নিয়মিত বাসে যাতায়াতকারী মহিলাদের পরিবহণের খরচ কমানো। বিশেষ করে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলারা যাতে শিক্ষা, চাকরি এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে সহজে যাতায়াত করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে।

পিঙ্ক কার্ড কী
পিঙ্ক কার্ড হল যোগ্য মহিলাদের জন্য রাজ্য সরকারের দেওয়া একটি পরিচয়পত্র। এই কার্ড থাকলে শহরের সরকারি বাসের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পরিচালিত দূরপাল্লার বাসেও বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা মিলবে। দিঘা, দার্জিলিংয়ের মতো পর্যটনকেন্দ্রে চলাচলকারী সরকারি বাসও এই পরিষেবার আওতায় থাকবে।

বাসে ওঠার পর কন্ডাক্টর টিকিট ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে পিঙ্ক কার্ড যাচাই করবেন। কার্ডটি শারীরিক ভাবে দেখানোর পাশাপাশি ডিজিটাল ভাবেও যাচাই করা যাবে। যাচাই সম্পূর্ণ হলেই বিনামূল্যে যাত্রার অনুমতি মিলবে।

কারা পাবেন এই সুবিধা
এই প্রকল্পের সুবিধা মূলত আর্থিক ভাবে অসচ্ছল মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তাই প্রত্যেক মহিলা স্বয়ংক্রিয় ভাবে এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। যোগ্যতা যাচাইয়ের পরেই পিঙ্ক কার্ড দেওয়া হবে।

পিঙ্ক কার্ডের জন্য কী কী নথি লাগবে
আবেদন করার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর। অনলাইনে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় নথিগুলির স্পষ্ট ডিজিটাল কপি জমা দিতে হবে।

অনলাইনে কী ভাবে আবেদন করবেন
পিঙ্ক কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে পিঙ্ক কার্ড সংক্রান্ত বিকল্পে গিয়ে নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এরপর আধার, ভোটার কার্ড, ছবি-সহ চাওয়া নথি আপলোড করে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার আগে সমস্ত তথ্য ভালো ভাবে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। আবেদন জমা পড়ার পর পরিবহণ দফতরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নথি এবং তথ্য যাচাই করবেন। যাচাইয়ে আবেদনটি অনুমোদিত হলে যোগ্য মহিলার নামে পিঙ্ক কার্ড ইস্যু করা হবে।

অফলাইনে আবেদনের সুযোগও রয়েছে
অনলাইনে আবেদন করতে না পারলেও সমস্যা নেই। গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট ব্লক উন্নয়ন অফিস বা বিডিও অফিসে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে, পুরসভা এলাকার বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা অফিস থেকে আবেদন করতে পারবেন।

সেখান থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। আধার কার্ড, ভোটার আইডি, ছবি এবং মোবাইল নম্বরের তথ্য-সহ প্রয়োজনীয় নথির কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এরপর সরকারি আধিকারিকরা নথি যাচাই করবেন। যোগ্যতা পূরণ করলে আবেদন অনুমোদনের পর পিঙ্ক কার্ড দেওয়া হবে।

কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কী হবে
পিঙ্ক কার্ডের আবেদন জমা দিলেই বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা পাওয়া যাবে না। আবেদনটি যদি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে থাকে এবং কার্ড ইস্যু না হয়ে থাকে, তা হলে বাসে সাধারণ যাত্রীর মতো ভাড়া দিতে হবে।

পিঙ্ক কার্ড ইস্যু হওয়ার পরই বিনামূল্যে যাত্রার সুবিধা নেওয়া যাবে। কার্ডটি ফিজিক্যাল অথবা ডিজিটাল অবস্থায় সঙ্গে রাখা এবং প্রয়োজনের সময় যাচাই করানো জরুরি। আগামী দিনে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাত্রার ক্ষেত্রে পিঙ্ক কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now