মধ্যবিত্তের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় কমিউটার বাইকের নাম Hero Splendor Plus। অফিস যাতায়াত থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজে এই বাইকের উপর ভরসা করেন বহু মানুষ। কম খরচে চালানো এবং ভালো মাইলেজের কারণে দেশের বাইকের বাজারে এর আলাদা পরিচিতি রয়েছে।
নতুন বাইক কেনার পরিকল্পনা থাকলেও একবারে পুরো টাকা খরচ করতে না চাইলে ফাইন্যান্সের মাধ্যমে Splendor Plus কেনার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট ঋণদাতার শর্ত অনুযায়ী কম ডাউন পেমেন্টেও বাইক কেনা সম্ভব হতে পারে। একটি উদাহরণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট ধরে মাসিক কিস্তির হিসাব করা যেতে পারে।
অন রোড দাম কত হতে পারে
Hero Splendor Plus এর এক্স শোরুম দাম ভ্যারিয়েন্ট এবং রাজ্য অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। এর সঙ্গে RTO, ইনস্যুরেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ যুক্ত হলে অন রোড দাম আরও বাড়ে।
ধরা যাক, বাইকটির অন রোড দাম প্রায় ৯০ হাজার থেকে ৯২ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার পর প্রায় ৮০ হাজার থেকে ৮২ হাজার টাকার ঋণ প্রয়োজন হতে পারে।
তবে বাস্তবে কত টাকা ঋণ পাওয়া যাবে, তা প্রত্যেক গ্রাহকের ক্ষেত্রে এক নাও হতে পারে। আবেদনকারীর আয়, CIBIL স্কোর, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা ফাইন্যান্স সংস্থার নিয়মের উপর ঋণের পরিমাণ নির্ভর করবে।
মাসে কত টাকা EMI হতে পারে
ধরা যাক, ৮০ হাজার থেকে ৮২ হাজার টাকার টু হুইলার লোন নেওয়া হল। বার্ষিক প্রায় ৯.৫ থেকে ১০ শতাংশ সুদের হারে তিন বছরের জন্য ঋণ নিলে মাসিক EMI আনুমানিক ২,৬০০ থেকে ২,৭৫০ টাকার মধ্যে হতে পারে।
অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ টাকা আলাদা করে রাখলে মাসিক কিস্তির টাকা জোগাড় করার মতো অঙ্ক দাঁড়াতে পারে। তবে এটি শুধুমাত্র একটি আনুমানিক হিসাব। প্রকৃত EMI নির্ভর করবে ঋণের পরিমাণ, সুদের হার, মেয়াদ এবং ঋণদাতার অন্যান্য চার্জের উপর।
দুই বছরের লোন নিলে কী হবে
ঋণের মেয়াদ কমিয়ে ২৪ মাস করা হলে মাসিক EMI তুলনামূলকভাবে বেড়ে যাবে। তবে এর একটি সুবিধাও রয়েছে। লোন দ্রুত পরিশোধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ঋণের মেয়াদে মোট সুদের খরচ তিন বছরের ঋণের তুলনায় কম হতে পারে।
তাই শুধু কম EMI দেখেই লোন নেওয়া উচিত নয়। নিজের মাসিক আয় ও খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কত দিনের জন্য ঋণ নেওয়া সুবিধাজনক, সেটিও হিসাব করা প্রয়োজন।
লোন নেওয়ার আগে কোন বিষয়গুলি দেখবেন
১০ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্টের অফার আকর্ষণীয় মনে হলেও বাইক কেনার আগে ফাইন্যান্সের সম্পূর্ণ শর্ত দেখে নেওয়া জরুরি। লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে আধার কার্ড, PAN কার্ড, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি এবং আয়ের প্রমাণের মতো কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
এছাড়া প্রসেসিং ফি, ফাইল চার্জ, ডকুমেন্টেশন চার্জ এবং প্রি পেমেন্ট বা ফোরক্লোজার সংক্রান্ত কোনও অতিরিক্ত খরচ রয়েছে কি না, তা আগে জেনে নেওয়া উচিত। ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকলে তুলনামূলক সুবিধাজনক সুদের হার পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে।
Splendor Plus এ কী ইঞ্জিন রয়েছে
Hero Splendor Plus এ রয়েছে ৯৭.২ সিসির এয়ার কুলড সিঙ্গল সিলিন্ডার ফুয়েল ইনজেক্টেড ইঞ্জিন। কমিউটার বাইক হিসেবে এর অন্যতম বড় আকর্ষণ হল জ্বালানি সাশ্রয়ী পারফরম্যান্স। বাইকটিতে i3S প্রযুক্তিও রয়েছে, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
ফলে কম ডাউন পেমেন্টে বাইক কেনার পরিকল্পনা থাকলে Splendor Plus একটি বিবেচ্য বিকল্প হতে পারে। তবে ১০ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট বা নির্দিষ্ট EMI সব গ্রাহকের জন্য একই হবে না। বাইক কেনার আগে স্থানীয় ডিলার বা ঋণদাতার কাছ থেকে বর্তমান অন রোড দাম, সুদের হার এবং সমস্ত অতিরিক্ত চার্জ জেনে নিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।







