গরম হোক বা বর্ষা, দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে ইনভার্টারই ভরসা। কিন্তু অনেকেই ইনভার্টার কেনার পর তার ব্যাটারির রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেন না। ফলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ব্যাকআপ, এমনকি নির্ধারিত সময়ের আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে ব্যাটারি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে নিয়মিত কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
ইনভার্টার ব্যাটারির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে জলের মাত্রা ঠিক রাখা। ব্যাটারির ভিতরে থাকা ইলেকট্রোলাইট সঠিক মাত্রায় না থাকলে প্লেট শুকিয়ে যেতে শুরু করে। এর ফলে চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়, ব্যাকআপের সময়ও কমে আসে। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে ব্যাটারি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অনেকেরই ধারণা, ব্যাটারির পুরনো জল ফেলে নতুন জল ভরতে হয়। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। জলের স্তর কমে গেলেই শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী ডিস্টিলড জল যোগ করতে হয়। পুরনো জল পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই।
কত দিন অন্তর ব্যাটারির জল পরীক্ষা করবেন, তা নির্ভর করে ইনভার্টারের ব্যবহারের উপর। যদি আপনার এলাকায় খুব কম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়, তাহলে দুই থেকে তিন মাস অন্তর একবার ব্যাটারি পরীক্ষা করলেই যথেষ্ট। তবে যেখানে ঘন ঘন লোডশেডিং হয় এবং ইনভার্টারের ব্যবহার বেশি, সেখানে এক থেকে দেড় মাস অন্তর জলের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।
বেশিরভাগ ইনভার্টার ব্যাটারিতেই Minimum এবং Maximum লেভেলের চিহ্ন দেওয়া থাকে। যদি দেখা যায় জলের স্তর Minimum-এর নিচে নেমে গিয়েছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ডিস্টিলড জল দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, জল যেন Maximum লেভেলের উপরে না ওঠে। অতিরিক্ত জল ভরলে লিকেজ বা অন্য প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ব্যাটারিতে কখনওই কলের জল বা RO-র জল ব্যবহার করা উচিত নয়। এই ধরনের জলে থাকা খনিজ পদার্থ ব্যাটারির প্লেটের উপর জমে গিয়ে কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই সবসময় বিশুদ্ধ ডিস্টিলড জলই ব্যবহার করা নিরাপদ।
এছাড়াও ব্যাটারি পরীক্ষা করার সময় কিছু সতর্কতাও জরুরি। অপ্রয়োজনে ব্যাটারির ক্যাপ খুলবেন না। পরীক্ষা করার সময় হাতমোজা এবং সুরক্ষা চশমা ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে। যদি ব্যাটারি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে যায় বা বারবার জলের স্তর কমে যেতে থাকে, তাহলে দেরি না করে কোনও দক্ষ প্রযুক্তিবিদের মাধ্যমে ব্যাটারিটি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই উচিত।






