অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালেন্স না থাকলে জরিমানা দিতে হয়, তা অনেকেরই জানা। কিন্তু সেই খাতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি এক বছরে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৭,০০০ কোটিরও বেশি টাকা আদায় করেছে। সংসদের রাজ্যসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরী। তিনি জানান, এই পরিসংখ্যান রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে শুধুমাত্র ন্যূনতম ব্যালেন্স বজায় না রাখার কারণে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি জরিমানা হিসেবে ৪,৯৪৮.৭১ কোটি টাকা আদায় করেছে। একই সময়ে সরকারি ব্যাঙ্কগুলির আয় হয়েছে ২,১৩৭.৯২ কোটি টাকা। সেভিংস এবং কারেন্ট— দুই ধরনের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেই এই জরিমানা নেওয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে জরিমানা আদায়ে শীর্ষে রয়েছে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক। এই খাতে তাদের আয় ১,৭৯৮.১৪ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, যারা জরিমানা বাবদ আদায় করেছে ১,০৮১.৩৩ কোটি টাকা।
রাজ্যসভায় পঙ্কজ চৌধরী জানান, মোট ১৯টি বেসরকারি ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের কাছ থেকে এই ধরনের জরিমানা নিয়েছে। এর মধ্যে শুধু এইচডিএফসি এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কই মোট জরিমানার প্রায় ৫৮ শতাংশ সংগ্রহ করেছে। দুই ব্যাঙ্কের সম্মিলিত আদায়ের পরিমাণ ২,৮৭৯.৪৭ কোটি টাকা।
তবে সব ধরনের অ্যাকাউন্টে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা এবং বেসিক সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে ন্যূনতম ব্যালেন্স সংক্রান্ত জরিমানার বাইরে রাখা হয়েছে।
ন্যূনতম ব্যালেন্সের ক্ষেত্রেও সব ব্যাঙ্কে এক নিয়ম নেই। প্রত্যেক ব্যাঙ্ক তাদের পরিষেবা, পরিচালন ব্যয় এবং শাখার অবস্থানের ভিত্তিতে এই সীমা নির্ধারণ করে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের জন্যও আলাদা নিয়ম থাকে। সাধারণভাবে সেভিংস অ্যাকাউন্টে ১,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ন্যূনতম ব্যালেন্স রাখতে হতে পারে। অন্যদিকে, কারেন্ট অ্যাকাউন্টে শহরাঞ্চলে মাসিক বা ত্রৈমাসিক গড়ে প্রায় ১৫,০০০ টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে ২,৫০০ থেকে ৭,৫০০ টাকার মধ্যে ন্যূনতম ব্যালেন্সের শর্ত দেখা যায়।
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি ব্যাঙ্কগুলির আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। রেকর্ড মুনাফা, ঋণখেলাপির হার কমে আসা এবং শক্তিশালী ব্যালেন্স শিট তার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে বাজারে ঋণের জোগান স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র এ বছরের মে মাসে এমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম (ইসিএলজিএস) ৫.০ চালু করেছে, যার ফলে বিমান পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সংস্থাগুলির ঋণপ্রাপ্তি সহজ হয়েছে।






