পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষ সরকারি ভর্তুকিতে রেশন পান। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় বহু পরিবার প্রতি মাসে বিনামূল্যে বা কম দামে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করেন। তবে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে এই সুবিধা পৌঁছে দিতে এবার রেশন কার্ড যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। লক্ষ্য, যাঁরা নিয়ম অনুযায়ী এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাঁদের চিহ্নিত করা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রের নির্দেশে বিভিন্ন রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও রেশন কার্ডের তথ্য পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে এমন একাধিক ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, যেখানে প্রকৃত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও রেশন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণেই তথ্য যাচাইয়ের পর প্রয়োজনে কার্ড বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।
খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, যাঁদের বার্ষিক আয় ৬ লক্ষ টাকার বেশি, তাঁদের রেশন কার্ড বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। পাশাপাশি বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের তথ্যও যাচাই করা হবে। তবে CAA-র জন্য আবেদন করে থাকলে এবং সেই আবেদন এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে থাকলে আবেদনপত্রের কপি দেখিয়ে আপাতত রেশন সুবিধা চালু রাখা যাবে। যাচাইয়ের পর আবেদন বাতিল হলে রেশন কার্ডের উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।
যাঁদের তথ্য বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, পেনশনভোগী, EPF-এ নথিভুক্ত কর্মী, ব্যক্তিগত চারচাকা গাড়ির মালিক এবং ভারী বাণিজ্যিক গাড়ির মালিকেরা। তবে শুধুমাত্র এই তালিকায় নাম থাকলেই কার্ড বাতিল হবে, এমন নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তথ্য মিলিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন্দ্রের দাবি, সারা দেশে প্রায় ৬ কোটি রেশন কার্ডধারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিনামূল্যের রেশন পাওয়ার যোগ্য নন। এই তালিকায় এমন ব্যক্তিদেরও রাখা হয়েছে, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের আধারের তথ্য আর বৈধ নয় বা যাঁদের আয় নির্ধারিত সীমার বেশি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১৭.৫ লক্ষ রেশন কার্ড এই যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে। তবে এই সংখ্যাটি সরকারি চূড়ান্ত তালিকা নয়। সরকার স্পষ্ট করেছে, তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও রেশন কার্ড বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।








