ভারতের বহু প্রতীক্ষিত বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালুর দিনক্ষণ জানিয়ে দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন ২০২৭ সালের ১৫ অগস্ট থেকে চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই স্পিড রেল করিডরের সুরাট-বিলমোরা অংশে এই পরিষেবা শুরু হবে।
একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন পরবর্তী চ্যাপ্টারে প্রবেশ করল। আগামী বছর মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই স্পিড রেল করিডর দফায় দফায় চালু হবে। সুরাট-বিলমোর সেকশন থেকে বুলেট ট্রেনের যাত্রা শুরু হবে।”
৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই স্পিড রেল করিডরে ধাপে ধাপে পরিষেবা চালু করা হবে। এই ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার, যা বর্তমানে ভারতে চলা অধিকাংশ ট্রেনের তুলনায় অনেক বেশি। দেশের বেশিরভাগ এক্সপ্রেস ট্রেন ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করে।
শুধু পশ্চিম ভারতেই নয়, দক্ষিণ ভারতেও হাই স্পিড রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। তাঁর দাবি, হায়দরাবাদকে কেন্দ্র করে আরও তিনটি বুলেট ট্রেন করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য রুটগুলি হল পুণে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-চেন্নাই এবং হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু।
রেলমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, বুলেট ট্রেনে পুণে থেকে হায়দরাবাদ পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় ২ ঘণ্টা। হায়দরাবাদ থেকে মুম্বই যেতে লাগবে ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট, অমরাবতী পৌঁছতে মাত্র ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট এবং চেন্নাই যেতে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
অশ্বিনী বৈষ্ণবের কথায়, এই হাই স্পিড রেল করিডরগুলি শুধু দ্রুত যাতায়াতই নিশ্চিত করবে না, কর্মসংস্থান, পর্যটন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি তিনি জানান, তেলঙ্গানায় বিভিন্ন রেল প্রকল্পের জন্য ৫,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র।








