মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য ফের বাড়তে পারে মাসিক খরচ। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে দেশের শীর্ষ টেলিকম সংস্থাগুলি রিচার্জ প্ল্যানের দাম বাড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সম্ভাব্য এই মূল্যবৃদ্ধির আওতায় থাকতে পারে রিলায়েন্স জিও, এয়ারটেল এবং ভোডাফোন আইডিয়ার (Vi) প্রিপেড ও পোস্টপেইড প্ল্যান।
সেন্ট্রাম ইনস্টিটিউশনাল রিসার্চ-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, টেলিকম সংস্থাগুলি রিচার্জের দাম ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। যদিও সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, 5G পরিষেবা সম্প্রসারণ, নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ এবং গ্রাহক-পিছু আয় (ARPU) বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি বর্তমানে দেশের টেলিকম বাজারে বড় বেসরকারি সংস্থার সংখ্যা সীমিত থাকায় মূল্যবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের অনুমান, ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলির গড় ARPU ১ থেকে ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর পিছনে 2G গ্রাহকদের 4G ও 5G-তে স্থানান্তর এবং পোস্টপেইড ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির মতো কারণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গ্রাহক সংখ্যার নিরিখেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি ত্রৈমাসিকে রিলায়েন্স জিও প্রায় ৭০ লক্ষ নতুন গ্রাহক পেতে পারে। এয়ারটেলের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ হতে পারে। অন্যদিকে, ভোডাফোন আইডিয়ার নতুন গ্রাহক বৃদ্ধির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ২ লক্ষ।
5G পরিষেবার সম্প্রসারণেও প্রতিযোগিতা জোরদার হয়েছে। জিও এবং এয়ারটেল ইতিমধ্যেই দেশের ৯০ শতাংশের বেশি জেলায় 5G পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছে। এখন তাদের লক্ষ্য আরও বেশি গ্রাহককে 5G-তে নিয়ে আসা এবং Fixed Wireless Access (FWA) ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ড পরিষেবা সম্প্রসারণ করা। অন্যদিকে, ভোডাফোন আইডিয়াও প্রায় ১০০টি শহরে 5G পরিষেবা চালু করেছে এবং ধাপে ধাপে সেই পরিসর বাড়াচ্ছে।
যদিও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এখনও কোনও সংস্থা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, তবে গবেষণা সংস্থার এই রিপোর্টে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মোবাইল রিচার্জের খরচ বাড়তে পারে। তাই যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি রিচার্জ করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।






