ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কট ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগে দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো বিক্রির উপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর এবার প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas) সরবরাহের ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) আমদানিতে বড়সড় প্রভাব পড়েছিল। তার জেরেই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনে। সেই সময় শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিতে গ্যাস সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রের জন্য আলাদা বরাদ্দও নির্ধারণ করা হয়।
এবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ফলে জ্বালানি সরবরাহও আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে এলএনজি বহনকারী জাহাজের চলাচল আবার স্থিতিশীল হওয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে আর কোনও জরুরি বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার প্রায় অর্ধেকই আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ এলএনজি আসে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে। ফলে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় আমদানি পরিস্থিতিরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে শিল্পক্ষেত্র, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল অন্যান্য পরিষেবায় সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কাটছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।






