তৃণমূল সরকারের সময় চালু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিবর্তিত রূপ ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে আরও স্বচ্ছতা আনার পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে। এবার উপভোক্তাদের তালিকাই জনসমক্ষে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষও নজরদারির অংশ হতে পারেন।
বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনার পাঁচজন মহিলার হাতে অন্নপূর্ণা যোজনার শংসাপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।
তিনি বলেন, “অন্নপূর্ণা যোজনার কাজ সফলভাবে চলছে। ৩ জুনে এই প্রকল্প চালু হওয়ার পরই যোগ্যদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছিল। আমাদের কাজ চলছে এখনও। পোর্টাল খোলা আছে। অনলাইন-অফলাইন অ্যাপ্লিকেশনও চলেছে। জনতা শিবিরে ব্লকে ব্লকে এই ফর্ম নেওয়া হয়েছে। এলিজিবিলিটি অনুসারে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ চলছে। এনকোয়ারি অফিসার, ডেটা ব্যাঙ্কেও কাজ চলছে। সব দিকে নজর রেখেই কাজ হবে।”
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হল নতুন একটি পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা। ওই পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এলাকার অন্নপূর্ণা যোজনার সমস্ত উপভোক্তার তালিকা দেখা যাবে। এর ফলে কে এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তা সাধারণ মানুষের কাছেও স্পষ্ট হবে।
এছাড়াও, যদি কেউ মনে করেন তালিকায় এমন কোনও ব্যক্তির নাম রয়েছে যিনি প্রকল্পের যোগ্য নন, তাহলে সেই বিষয়ে সরাসরি আপত্তি জানানোর সুযোগও থাকবে। মুখ্যসচিব বলেন, “নতুন পোর্টাল চালু হবে। ওই পোর্টালে ঢুকেই সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন তাঁদের নির্দিষ্ট এলাকায় কারা কারা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। অর্থাৎ, উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশ্যেই রাখা হবে। পাশাপাশি যদি কোনও ব্যক্তি মনে করেন, তালিকায় এমন কারও নাম রয়েছে যিনি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তা হলে সেই নিয়েও সরাসরি আপত্তি জানানো যাবে। ১৫ দিন থেকে ১ মাসের মধ্যে ওই অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হবে।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই প্রক্রিয়ায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, যোগ্য প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পৌঁছে গিয়েছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আবেদন যাচাই, তথ্য সংরক্ষণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রতিটি ধাপে প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। নতুন পোর্টাল চালু হলে উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশ এবং জনসাধারণের অভিযোগ জানানোর সুযোগ প্রকল্প পরিচালনায় আরও বেশি জবাবদিহি নিশ্চিত করবে বলে প্রশাসনের আশা।






