প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ পরিবারে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পৌঁছে দেন ডেলিভারি কর্মীরা। বুকিং করার পর সিলিন্ডার হাতে পেলেও, সেই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং গ্যাস এজেন্সির আয়ের হিসাব সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। একটি সিলিন্ডার সরবরাহের পিছনে কী ধরনের কমিশন কাঠামো কাজ করে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে বহু গ্রাহকের।
সাধারণভাবে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহকারী কর্মীরা প্রতিটি ডেলিভারির জন্য নির্দিষ্ট কমিশন পান। বিভিন্ন সংস্থা ও এলাকার ভিত্তিতে এই পরিমাণ কিছুটা পরিবর্তিত হলেও, প্রতি সিলিন্ডারে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমিশন মেলে বলে জানা যায়। ফলে একজন কর্মী দিনে যত বেশি সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে পারবেন, তাঁর উপার্জনও তত বাড়বে।
শুধু কমিশন নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডেলিভারি কর্মীরা একটি নির্দিষ্ট বেসিক বেতনও পান। এই বেতন সাধারণত ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। তার সঙ্গে কমিশন যুক্ত হলে মাসিক আয় ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে পৌঁছতে পারে। তবে শহর, গ্রাহকসংখ্যা এবং কাজের চাপ অনুযায়ী এই অঙ্কে তারতম্য হতে পারে।
একজন ডেলিভারি কর্মী দৈনিক গড়ে ২৫ থেকে ৪০টি সিলিন্ডার সরবরাহ করেন। সেই হিসেবে প্রতিদিনের কমিশনভিত্তিক আয় কয়েকশো টাকা থেকে হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। উৎসবের মরশুম বা চাহিদা বেশি থাকলে ডেলিভারির সংখ্যা আরও বাড়ে।
অনেক গ্রাহকের মধ্যেই একটি প্রশ্ন থাকে— সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার পরে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া কি বাধ্যতামূলক? নিয়ম অনুযায়ী এর উত্তর ‘না’। কারণ ডেলিভারির খরচ আগে থেকেই সিলিন্ডারের মূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে অনেকেই স্বেচ্ছায় সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ডেলিভারি কর্মীদের টিপস দিয়ে থাকেন।
অন্যদিকে গ্যাস এজেন্সিগুলিও প্রতিটি সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কমিশন পায়। ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশন প্রায় ৭৩.৮০ টাকা বলে জানা যায়। ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ কমে প্রায় ৩৬.৫৪ টাকায় নেমে আসে।
অর্থাৎ, এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক স্তরেই নির্দিষ্ট কমিশনভিত্তিক আয় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত উপার্জন নির্ভর করে কাজের পরিমাণ, গ্রাহক চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নীতির উপর। তাই একটি সিলিন্ডার বাড়িতে পৌঁছনোর পিছনে শুধু পরিবহণ নয়, একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও সক্রিয় থাকে।






