আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হল নোয়াপাড়ায়। দলীয় টিকিট না পাওয়া এবং সাম্প্রতিক এক ঘটনার জেরে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন নোয়াপাড়ার তিনবারের বিধায়ক মঞ্জু বসু। শনিবার তিনি প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে নোয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখ তৃণাঙ্কুরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংগঠক এবং অভিজ্ঞ বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও টিকিট না পাওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয় মঞ্জু বসুর মধ্যে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সম্প্রতি ধর্নামঞ্চে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি অপমানিত বোধ করেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন।
নোয়াপাড়া কেন্দ্রের রাজনীতিতে মঞ্জু বসুর উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। ২০০১, ২০১১ এবং ২০২১—এই তিনবার তিনি বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন। তাঁর স্বামী, তৃণমূল নেতা বিকাশ বসুর মৃত্যুর পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। ২০০০ সালে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে বিকাশ বসুর খুন রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন ফেলেছিল। সেই ঘটনার তদন্তে তৎকালীন তৃণমূল নেতা তথা বর্তমানে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং-এর নামও উঠে এসেছিল।
তবে রাজনৈতিক পথচলায় একাধিক উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছেন মঞ্জু বসু। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েও তিনি পরাজিত হন কংগ্রেস প্রার্থী মধুসূদন ঘোষের কাছে। এরপর থেকেই দলীয় সংগঠনে তাঁর প্রভাব কমতে শুরু করে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
২০১৮ সালের নোয়াপাড়া উপনির্বাচনের সময় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা চরমে ওঠে। সে সময় বিজেপি তাঁকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রতি আনুগত্যের কথা জানান। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন বিজেপি নেতৃত্ব, বিশেষত মুকুল রায়-এর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ফের রাজনৈতিক মোড় নিল নোয়াপাড়া। ধর্নামঞ্চের ঘটনায় মানসিকভাবে আঘাত পাওয়া এবং প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়া—এই দুই কারণেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।






