“সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার”, ভোটের ইস্তেহারে আর কী কী প্রতিশ্রুতি মমতার?

On: Friday, March 20, 2026 5:51 PM
---Advertisement---

নির্বাচনের আগে দলীয় ইস্তেহার প্রকাশ করতে গিয়ে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে ফের জোরালো বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই প্রকল্পের সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে চালু থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান আমরা বাড়িয়েছি। এবং স্পষ্ট করে দিয়েছি, সারাজীবন এই সুবিধা পাওয়া যাবে।” একইসঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশে পরোক্ষ কটাক্ষ করে তিনি বলেন, অনেকেই ভোটের সময় নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন করে না, কিন্তু তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে দেখিয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সাধারণ মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন, যা বছরে দাঁড়াচ্ছে ১৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে তফসিলি জাতি ও আদিবাসী মহিলাদের জন্য মাসিক অনুদান ১৭০০ টাকা, অর্থাৎ বছরে ২০,৪০০ টাকা।

২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর এবার নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল তৃণমূল (All India Trinamool Congress)। কালীঘাটে দলের চেয়ারপার্সন তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ‘বাংলার জন্য দিদির দশ প্রতিজ্ঞা’ শীর্ষক ইস্তেহার প্রকাশ করেন। আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে এই ইস্তেহারে আগামী ১৫ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছে শাসকদল।

ইস্তেহার প্রকাশের মঞ্চ থেকেই বিরোধী বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকার যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়ন করেই দেখায়। সেই সুর বজায় রেখেই একাধিক জনমুখী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

ইস্তেহারের মূল প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে আগামী দু-এক বছরের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং কাঁচা বাড়িকে পাকা করে দেওয়ার লক্ষ্য। পাশাপাশি, বিধবা ও প্রবীণদের যাঁদের ভাতা এখনও বাকি রয়েছে, তা দ্রুত অনুমোদনের আশ্বাস দেন তিনি। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে অনুদানের পরিমাণ বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

যুবসমাজকে লক্ষ্য করে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের মাসিক ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, ২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি তুলে ধরে সরকার নিজের উন্নয়নের খতিয়ানও সামনে আনে।

স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। ‘দুয়ারে সরকার’-এর আদলে ব্লক ও শহর স্তরে স্বাস্থ্য শিবিরের মাধ্যমে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, কয়েক হাজার সরকারি স্কুলের আধুনিকীকরণ, ই-লার্নিং চালু করা এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে ইস্তেহারে।

এছাড়া একাকী প্রবীণদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রকল্প চালুর আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক পুনর্গঠনের দিকেও জোর দিয়ে তিনি জানান, আগামী দিনে রাজ্যে নতুন ৭ থেকে ৮টি জেলা এবং একাধিক নতুন পুরসভা গঠন করা হতে পারে।

ছয়টি ভাষায় প্রকাশিত এই ইস্তেহারকে সামনে রেখে ভোটের আগে উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতির লড়াই আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now