রাজন্যা হালদারের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মাধ্যমে। ছাত্র রাজনীতির মঞ্চ থেকেই তিনি ধীরে ধীরে পরিচিতি পান। বিশেষ করে একুশে জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চে তাঁর বক্তব্য তাঁকে আলোচনায় নিয়ে আসে এবং দলের অন্দরে তাঁর গুরুত্ব বাড়ায়।
তবে এই উত্থানের মাঝেই আসে বিতর্ক। আরজি কর ঘটনার পর একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি নির্মাণকে কেন্দ্র করে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কের জেরেই তৃণমূল তাঁকে সাসপেন্ড করে। এরপর থেকেই রাজন্যার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।
অবশেষে খবর, ভোটে লড়ছেন রাজন্যা হালদার। নির্দল প্রার্থী হচ্ছেন তিনি। তবে জানেন কি! কোন দলের হয়ে নির্বাচনী ময়দানে নামছেন তিনি? খবর, কোনো বড় রাজনৈতিক দলের টিকিট ছাড়াই তিনি এবার সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন, যা এই কেন্দ্রের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজন্যা হালদার সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শুধু এই একটি কেন্দ্রেই নয়, তিনি আরও একটি কেন্দ্র থেকেও নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর এই পদক্ষেপ প্রচলিত দলীয় রাজনীতির বাইরে একটি আলাদা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা।
এই কেন্দ্রে রাজন্যার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই তারকা মুখ। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন অভিনেত্রী অরুন্ধতী মৈত্র (লাভলী), যিনি গতবারও এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ফলে সোনারপুর দক্ষিণে লড়াই কার্যত ত্রিমুখী—দুই প্রতিষ্ঠিত দলের প্রার্থীর মাঝে নির্দল রাজন্যা কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।
এক সময়ে বিজেপি নেতা সজল ঘোষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি হয়তো বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনা সত্যি হয়নি। কোনও দলেই যোগ না দিয়ে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রাজন্যা নিজে এই লড়াইয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের সমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই কেন্দ্রে তাঁর প্রভাব মূলত ভোটের অঙ্কে কাটাকাটি তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ফলাফলে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, দলীয় পরিচয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে রাজন্যা হালদারের এই লড়াই সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রকে রাজ্যের অন্যতম চর্চিত আসনে পরিণত করেছে। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই ‘নির্দল ফ্যাক্টর’ কতটা বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে। এর উত্তর মিলবে ৪ মে, ভোটগণনার দিনে।





