বর্তমান সময়ে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল নিরাপত্তা এবং স্থায়ী আয়। এই পরিস্থিতিতে বহু মানুষের কাছে এখনও ভরসার নাম লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা LIC।
দেশের কোটি কোটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই সংস্থার বিভিন্ন পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে এসেছে। কারণ LIC শুধু জীবনবিমা দেয় না, পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক নিরাপত্তাও তৈরি করে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, LIC-এর কিছু বিশেষ পরিকল্পনায় প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে মাসিক প্রায় ৭০০০ টাকা পর্যন্ত আয় পাওয়া সম্ভব। এই ধরনের পরিকল্পনা মূলত তাদের জন্য উপযোগী, যারা অবসর জীবনে বা নির্দিষ্ট সময় পরে স্থায়ী মাসিক আয়ের উৎস চান।
তবে এই আয় সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে পলিসির মেয়াদ, বিনিয়োগকারীর বয়স এবং নির্দিষ্ট স্কিমের শর্তের উপর। তাই কোনও পরিকল্পনায় বিনিয়োগ করার আগে সংশ্লিষ্ট শর্তগুলি ভালভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, LIC-এর অধিকাংশ পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করলে সবচেয়ে বেশি লাভ পাওয়া যায়। যদি কেউ ১০, ১৫ বা ২০ বছর নিয়মিত প্রিমিয়াম জমা করেন, তাহলে মেয়াদ শেষে ভালো রিটার্ন এবং বোনাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রযুক্তির যুগে LIC তাদের পরিষেবাকেও ডিজিটাল করেছে। এখন গ্রাহকরা অনলাইনে প্রিমিয়াম জমা দেওয়া, পলিসির স্ট্যাটাস দেখা এবং অভিযোগ জানানো সহ বিভিন্ন পরিষেবা সহজেই ব্যবহার করতে পারেন।
এছাড়া LIC-এ বিনিয়োগ করলে আয়কর আইনের ধারা 80C অনুযায়ী কর ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রেই পলিসি মেয়াদ পূর্ণ হলে যে অর্থ পাওয়া যায়, সেটিও করমুক্ত হতে পারে।
তবে বিনিয়োগের আগে নিজের আয়, খরচ এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য বিবেচনা করে সঠিক পরিকল্পনা বেছে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে LIC-এর অনুমোদিত এজেন্ট বা আর্থিক পরামর্শদাতার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।








