মহাকাশে মানব বসতি গড়ে তোলার স্বপ্ন বহুদিনের। তবে সেই স্বপ্নকে নতুন দিশা দিলেন ইলন মাস্ক (Elon Musk)। এতদিন মঙ্গল গ্রহে শহর গড়ার কথা বললেও, এবার তাঁর নজর ঘুরেছে চাঁদের দিকে। সাম্প্রতিক এক্স পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, ১০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে চাঁদে স্ব বর্ধনশীল শহর তৈরি সম্ভব।
স্পেস এক্স (SpaceX)-এর প্রধানের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। যদিও এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের কোনও পূর্ণাঙ্গ নকশা প্রকাশ করা হয়নি, তবুও ধারণা করা হচ্ছে চাঁদের সম্পদ ব্যবহার করেই ধাপে ধাপে গড়ে তোলা হবে স্থায়ী মানব বসতি।
কেন মঙ্গল নয়, চাঁদ
মাস্কের যুক্তি সরল। মঙ্গল গ্রহে যাত্রা নির্ভর করে নির্দিষ্ট সময়ের উপর, যখন পৃথিবী ও মঙ্গলের অবস্থান অনুকূলে থাকে। এই সুযোগ আসে প্রায় ২৬ মাস অন্তর এবং যাত্রা সময় লাগে প্রায় ছয় মাস।
Elon’s not having a single doubt about it: “We will have a base on the Moon and people on Mars”.pic.twitter.com/jraeNPxrZf
— Mario Nawfal (@MarioNawfal) March 12, 2026
অন্যদিকে চাঁদ অনেক কাছের। মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পৌঁছানো সম্ভব এবং ঘন ঘন মিশন পাঠানো যায়। ফলে অবকাঠামো গড়ে তোলা, সরঞ্জাম পাঠানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া অনেক সহজ হবে। এই কারণেই মঙ্গলের তুলনায় চাঁদকে আপাতত বেশি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখছেন মাস্ক।

কেমন হতে পারে স্ব বর্ধনশীল শহর
এই শহরের মূল ধারণা হলো স্বনির্ভরতা। অর্থাৎ চাঁদের মাটি থেকেই অক্সিজেন, পানি এবং নির্মাণসামগ্রী তৈরি করা। বিজ্ঞানীদের মতে, তাত্ত্বিকভাবে এটি সম্ভব।
যুক্তরাজ্যের University of Surrey-এর গবেষক ড. সাংউ লিম জানিয়েছেন, এই ধারণা সম্পূর্ণ কল্পবিজ্ঞান নয়। তবে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ।
চাঁদের তীব্র তাপমাত্রা, সূক্ষ্ম ধুলিকণা, কম মাধ্যাকর্ষণ এবং সীমিত শক্তি সরবরাহ এই প্রকল্পকে কঠিন করে তুলবে। তাই আগে ছোট পরিসরে পরীক্ষা চালানো জরুরি।
বাস্তবতা বনাম উচ্চাভিলাষ
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকের মধ্যে চাঁদে ছোট একটি ঘাঁটি তৈরি করা সম্ভব হতে পারে, যেখানে সীমিত পরিসরে অক্সিজেন উৎপাদন এবং পানি সংগ্রহ শুরু হবে। তবে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর শহর গড়ে তুলতে সময় লাগবে আরও অনেক বেশি।
Massachusetts Institute of Technology-এর অধ্যাপক এবং প্রাক্তন নভোচারী জেফরি হফম্যান মনে করেন, চাঁদে নিয়মিত সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে মানব বসতির ভিত্তি স্থাপন সম্ভব। তবে মঙ্গল অভিযান এখনও অনেক দূরের লক্ষ্য।
ভবিষ্যতের সোপান হিসেবে চাঁদ
বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, চাঁদে সফলভাবে ঘাঁটি গড়ে উঠলে সেটি ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের জন্য সোপান হিসেবে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ সরাসরি মঙ্গলে যাওয়ার বদলে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়াই হতে পারে বাস্তবসম্মত পথ।
বাড়ছে মহাকাশ প্রতিযোগিতা
এই পরিকল্পনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন চাঁদে ফের মানুষ পাঠানো নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে চিন (China) এবং আমেরিকা (United States)-এর মধ্যে এই প্রতিযোগিতা স্পষ্ট।
NASA ইতিমধ্যেই আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে স্পেসএক্স গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সব মিলিয়ে ইলন মাস্কের এই নতুন পরিকল্পনা যতটা উচ্চাভিলাষী, ততটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, মহাকাশে মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে দৌড় এখন আরও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।








