রাজধানী দিল্লি-তে পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে বৈদ্যুতিক যানকে কেন্দ্র করে নতুন নীতি প্রণয়নের পথে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ধাপে ধাপে পেট্রোলচালিত দুই চাকার যানবাহনের ব্যবহার কমে আসবে এবং নাগরিকদের বৈদ্যুতিক বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে হবে।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২৮ সালের পর নতুন পেট্রোলচালিত স্কুটার বা মোটরবাইক কেনা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে প্রতিদিন যাঁরা বাইক বা স্কুটারে নির্ভর করে কর্মস্থল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন, তাঁদের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
প্রস্তাবিত নীতিতে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত যানবাহন কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দুই ও তিন চাকার যানবাহনে, কারণ শহরের মোট যানবাহনের বড় অংশই এই শ্রেণির এবং দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে এগুলিকেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে কেবল বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান নিবন্ধনের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তার পরবর্তী ধাপে ২০২৮ সাল থেকে নতুন দুই চাকার যান নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক বিকল্পই অনুমোদনের পথে হাঁটছে সরকার।
বর্তমানে দিল্লিতে প্রায় ৭৫ লক্ষ যানবাহন রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষই দুই চাকার। ফলে এই নীতি কার্যকর হলে শহরের সবচেয়ে বড় যানবাহন শ্রেণিতেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। সরকারের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
নীতির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আর্থিক সহায়তা। বৈদ্যুতিক দুই চাকার যান কেনার ক্ষেত্রে প্রথম বছরে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ধীরে ধীরে কমানো হবে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে রোড ট্যাক্স এবং নিবন্ধন ফি থেকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
শুধু যানবাহন নয়, চার্জিং পরিকাঠামো গড়ে তোলাতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। শহরজুড়ে চার্জিং স্টেশন বাড়ানো, ব্যক্তিগত চার্জিং ব্যবস্থাকে উৎসাহ দেওয়া এবং নির্মাতাদের এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সামাজিক দিক থেকেও এই নীতিতে বিশেষ উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের জন্য বৈদ্যুতিক তিন চাকার বিশেষ বহর তৈরি এবং স্কুল বাসের একটি অংশ বিদ্যুতায়িত করার মতো পদক্ষেপও বিবেচনায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা না হলেও স্পষ্ট যে, দিল্লি ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক যানভিত্তিক পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে এগোতে চাইছে।








