‘উন্নয়নের পাঁচালি’ গাওয়ার পর থেকেই নেটমাধ্যমে লাগাতার কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় গায়িকা ইমন চক্রবর্তী-কে। এরপর ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান বঙ্গবিভূষণ পাওয়ার পর সেই আক্রমণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ক্রমাগত ট্রোলিং এবং অপমানজনক মন্তব্যে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে একসময় সংবাদমাধ্যমের সামনে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
এই আবহেই জোর জল্পনা শুরু হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠতা এবং ওই গান ঘিরে আলোচনার জেরে ইমন কি তবে নির্বাচনী রাজনীতিতে নামছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে যায় বিস্তর আলোচনা, কোন কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে তা নিয়েও চলতে থাকে জল্পনা।
মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই সেই জল্পনায় জল পড়ে। তালিকায় নতুন মুখ থাকলেও, ইমনের নাম নেই। এর পরই ফেসবুকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন তিনি। সেখানে গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে লেখেন, তাঁকে নানা জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে কথার ছলে। উত্তরপাড়া থেকে আমতলা, এমনকি কেওড়াতলা পর্যন্ত—নানা প্রসঙ্গ টেনে তাঁর নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ইঙ্গিত করেন গায়িকা। শেষে আবেদন জানান, তাঁকে যেন এবার নিজের মতো করে থাকতে দেওয়া হয়।

এর আগে এক লাইভে ইমন জানান, ব্যক্তিগত মুহূর্তেও তাঁকে ছাড়েননি নেটিজেনদের একাংশ। মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে করা একটি আবেগঘন পোস্টেও কুরুচিকর মন্তব্যের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। এমন মন্তব্যও এসেছে যেখানে তাঁর পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়েছে, যা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।
তবে সম্পূর্ণভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ছেন না ইমন। পেশাগত কারণে তাঁর ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকবে বলেই জানিয়েছেন তিনি। নতুন গান ও কাজের আপডেট সেখানেই ভাগ করে নেবেন। প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকা এবং তাঁর সাম্প্রতিক বার্তা—দুটিই যেন স্পষ্ট করে দিল, আপাতত রাজনীতি নয়, নিজের কাজেই মন দিতে চান গায়িকা।






