মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা অস্থিরতার প্রভাব এবার দেখা যাচ্ছে ভারতের রান্নার গ্যাসের বাজারেও। এলপিজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বেঙ্গালুরুর বহু হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতেই সামনে এসেছে এক ভিন্ন সমাধান। শহরেরই এক প্রবীণ উদ্ভাবকের তৈরি জ্বালানি সাশ্রয়ী একটি চুলা এখন নতুন করে আলোচনায়।
বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা পঁয়ষট্টি বছরের অশোক উরস একসময় অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশনের কর্মী ছিলেন। প্রায় ছয় বছর আগে তিনি গ্রামীণ ভারতের মানুষের কথা ভেবে একটি কম জ্বালানিতে চলা চুলা তৈরি করেন। সেই চুলাই এখন শহরের ছোট খাবারের দোকান ও রেস্তরাঁর নজর কেড়েছে। উরস জানিয়েছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন তাঁর কাছে ফোন আসছে। কেউ চুলা কিনতে চাইছেন আবার কেউ জানতে চাইছেন কীভাবে এটি তৈরি করা যায়।
ভারতের বহু গ্রামীণ এলাকায় এখনও রান্নার জন্য কাঠই প্রধান ভরসা। বিশেষ করে কর্নাটকের অনেক অঞ্চলে এই ছবি স্পষ্ট। কিন্তু কাঠের ধোঁয়া চোখ ও ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঠ কাটার কারণে অনেক জায়গায় জ্বালানির সংকটও তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই উরস এমন একটি চুলা তৈরির চেষ্টা করেন যাতে কম জ্বালানিতে বেশি তাপ পাওয়া যায় এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
এই বিশেষ চুলার নাম রকেট স্টোভ। এটি কাঠে জ্বলা চুলার একটি উন্নত রূপ। এর ভিতরে এল আকৃতির একটি দহনকক্ষ থাকে এবং চারপাশে তাপ ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে বাতাস সহজে প্রবাহিত হয় এবং আগুন দ্রুত ও তীব্রভাবে জ্বলে ওঠে। ফলে কম জ্বালানিতেই বেশি তাপ পাওয়া যায়।

এই চুলায় বড় কাঠের বদলে ছোট ছোট জৈব উপাদান ব্যবহার করা যায়। যেমন নারকেলের খোল ডালপালা শুকনো পাতা কিংবা কৃষিজ বর্জ্য। এগুলো দ্রুত জ্বলে তাপ তৈরি করে। ফলে প্রচলিত কাঠের চুলার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি লাগে এবং ধোঁয়াও কম হয়।
একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উরস এই চুলার প্রদর্শনী করেছেন যাতে মানুষ এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারে। বর্তমানে একটি রকেট স্টোভের দাম প্রায় তিন হাজার টাকা।
উরসের কথায় শুরুতে গ্রামীণ পরিবারের সুবিধার কথা ভেবেই এই চুলা তৈরি করা হয়েছিল। তবে এখন গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় শহরের ছোট খাবারের দোকানগুলিও বিকল্প হিসেবে এই চুলার দিকে নজর দিচ্ছে।
তিনি জানান এখনও অনেক গ্রামীণ এলাকায় মানুষ খোলা আগুনে রান্না করেন। এতে প্রচুর কাঠ লাগে এবং প্রচুর ধোঁয়া তৈরি হয়। তাঁর লক্ষ্য ছিল দেখানো যে একই রান্না অনেক কম জ্বালানিতেও করা সম্ভব।





