পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫০ বছর পর আবার দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। শেষবার ১৯৭৭ সালে রাজ্যে দুদিন ধরে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সে বছর জুন মাসের ১১ এবং ১৪ তারিখে ভোট হয়। এরপর ২১ জুন জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসে এবং রাজ্যে দীর্ঘ বাম শাসনের সূচনা হয়।
তারপর বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে একদিনেই বিধানসভা ভোট সম্পন্ন হয়েছে। ২০০১ সাল পর্যন্ত এই ধারাই বজায় ছিল। কিন্তু ২০০৬ সাল থেকে ভোটের কাঠামোতে পরিবর্তন আসে। সেই বছর প্রথমবার এক লাফে পাঁচ দফায় নির্বাচন হয়।
পরবর্তী সময়ে দফার সংখ্যা ধীরে ধীরে আরও বাড়তে থাকে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয় ছয় দফায়। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় সাত দফায়। আর ২০২১ সালে রাজ্যে আট দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবার ২০২৬ সালে আবার প্রায় পঞ্চাশ বছর পর দুই দফায় ভোট হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
দিল্লির নির্বাচন সদনে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) জানান যে দীর্ঘ আলোচনা এবং পর্যালোচনার পর দফার সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে এতে নির্বাচন পরিচালনা আরও কার্যকর এবং সহজ হবে।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি এ বছর আরও কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হচ্ছে। তবে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে ভোট হবে একদিনেই।
নিরাপত্তার বিষয়টিও এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় আট দফার ভোট পরিচালনার জন্য প্রায় এক হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। সেই বাহিনীর মধ্যে ছিল সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ এবং আইটিবিপি।
সেই নির্বাচনের সময় কোচবিহারের শীতলখুঁচি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন তখন জাতীয় স্তরেও আলোচনায় উঠে আসে।
এবারের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে চারশো আশি কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন এলাকায় টহল চালানো, ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা, ভোটগ্রহণের দিনে বুথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটের পর ইভিএম রাখা স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়া।
নির্বাচনের আগে এই প্রস্তুতি এবং দফা কমানোর সিদ্ধান্ত রাজ্যের ভোট প্রক্রিয়াকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা এখন দেখার বিষয়।







