ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। রবিবার নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে জল্পনা উসকে দিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)-এর ছেলে তৃষানজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Trishanjit Chatterjee)।
রবিবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন তৃষাণজিৎ। ছবিতে তাঁর সঙ্গে দেখা যাচ্ছে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)-কে। সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন ‘জয় শ্রী রাম’। পোস্টটি সামনে আসতেই ভোটমুখী বাংলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, তবে কি গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন প্রসেনজিৎ পুত্র।

সমাজমাধ্যমে পোস্ট হওয়া ছবিটি অবশ্য নতুন নয়। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ছবিটি তোলা হয়েছিল। সেই সময় পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার পর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর বালিগঞ্জের বাসভবন উৎসবে গিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। সেই সাক্ষাতের সময়ই তোলা হয়েছিল ছবিটি। সেখানে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং সুকান্ত মজুমদারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তৃষাণজিৎকে।
রবিবার রাতে সেই পুরনো ছবিই সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেন তৃষাণজিৎ। সঙ্গে জয় শ্রীরাম লেখা ক্যাপশন। এরপর থেকেই নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, এই পোস্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে। আবার একাংশের মতে, এটি ব্যক্তিগত মত প্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।
তবে এই জল্পনার মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বা তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের তরফে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ভোটের আবহে এমন পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা চললেও কেউই সরাসরি এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।
উল্লেখ্য, গত সাত ফেব্রুয়ারি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বালিগঞ্জের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান সুকান্ত মজুমদার। সেসময় তিনি অভিনেতার হাতে রামলালার প্রতিকৃতি ও ফুলের তোড়া তুলে দেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতা জানান, সেই সাক্ষাতের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বাংলা সিনেমার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পদ্ম সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে তাঁকে।
কিন্তু কয়েক মাস পর সেই সময়ের ছবিই যখন সমাজমাধ্যমে সামনে এল এবং তাতে জয় শ্রীরাম ধ্বনি যুক্ত হল, তখন ভোটমুখী বাংলায় তা স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তৃষাণজিতের স্বাধীন মত প্রকাশের প্রশংসা করছেন, আবার অন্য অংশ এই পোস্টের মধ্যে রাজনৈতিক বার্তা খুঁজছেন।
ফলে আপাতত একটিমাত্র ছবি এবং একটি ক্যাপশন ঘিরেই তোলপাড় সমাজমাধ্যম। তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায় সত্যিই কোনও রাজনৈতিক পথে হাঁটতে চলেছেন কি না, নাকি এটি শুধুই ব্যক্তিগত মত প্রকাশ, তার উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের হাতেই।





