রান্নার গ্যাসের দাম বাড়া এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এখন অনেকেই গ্যাস সাশ্রয়ের উপায় খুঁজছেন। কিন্তু গ্যাস বাঁচাতে চাইলে প্রথমেই জানা দরকার সিলিন্ডারে ঠিক কতটা গ্যাস বাকি আছে।
আসলে খুব সহজ কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেই বাড়িতে বসে বোঝা যায় সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস রয়েছে। এতে অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা কমে এবং সঠিক সময়ে নতুন সিলিন্ডার বুক করাও সহজ হয়।
ভিজে কাপড়ের সহজ পদ্ধতি
সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হল ভিজে কাপড় ব্যবহার করা।
একটি পরিষ্কার কাপড় ভালোভাবে ভিজিয়ে নিয়ে গ্যাস সিলিন্ডারের গা বরাবর উপর থেকে নিচ পর্যন্ত মুছে দিন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে দেখবেন সিলিন্ডারের একটি অংশ দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে এবং অন্য অংশ ভিজে থাকছে।
যে অংশটি ভিজে থাকবে সেখানে গ্যাস রয়েছে। কারণ এলপিজি তরল অবস্থায় থাকায় ওই অংশের তাপমাত্রা কম থাকে।
আগুনের শিখার রং দেখে
গ্যাস শেষ হওয়ার আগেই আগুনের শিখার রং বদলে যায়।
সাধারণত আগুনের রং নীল হলে বুঝতে হবে গ্যাস ঠিক আছে। কিন্তু শিখা যদি হলুদ বা কমলা রঙের হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে সিলিন্ডারের গ্যাস প্রায় শেষের দিকে।
চক দিয়ে দাগ টানার পদ্ধতি
একটি চক নিয়ে সিলিন্ডারের গায়ে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একটি দাগ টানুন।
কিছুক্ষণ পরে দেখবেন সিলিন্ডারের যে অংশে গ্যাস রয়েছে সেখানে চকের দাগ ভিজে মুছে যেতে শুরু করেছে। আর খালি অংশে দাগ অক্ষত থাকবে।
গ্যাসের গন্ধ থেকে বোঝা
গ্যাস যখন শেষের দিকে চলে আসে তখন বার্নার জ্বালানোর সময় হালকা গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।
একই সঙ্গে আগুনের তেজও কমে যায়। এটিও সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হওয়ার একটি ইঙ্গিত হতে পারে।
ওজন মেপে হিসাব করুন
বাড়িতে যদি ওজন মাপার যন্ত্র থাকে তাহলে সিলিন্ডারের ওজন মেপেও গ্যাসের পরিমাণ বোঝা যায়।
সাধারণত গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারে গ্যাস থাকে প্রায় ১৪.২ কেজি এবং খালি সিলিন্ডারের ওজন প্রায় ১৫.৫ কেজি।
মোট ওজন থেকে খালি সিলিন্ডারের ওজন বাদ দিলেই বোঝা যাবে সিলিন্ডারে ঠিক কতটা গ্যাস অবশিষ্ট আছে।
এই সহজ পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করলে বাড়িতে বসেই গ্যাসের পরিমাণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় এবং সময়মতো নতুন সিলিন্ডার বুক করাও সহজ হয়ে যায়।






