ভারতে নতুন শ্রম বিধি কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষিতে কর্মসংস্থানের ধরনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ সংস্থা ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে। এর ফলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র আরও আনুষ্ঠানিক ও নথিভুক্ত কাঠামোর দিকে এগোতে পারে।
মানবসম্পদ পরিষেবা সংস্থা Genius HRTech প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থার মতে, নতুন শ্রম বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠানই কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কাঠামোবদ্ধ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে। এতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা ও স্বচ্ছতা বাড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে কেন্দ্র সরকার দেশের ২৯টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইনকে একত্র করে চারটি বৃহৎ শ্রম বিধিতে রূপ দেয়। এই বিধিগুলি হল মজুরি সংক্রান্ত বিধি, শিল্প সম্পর্ক বিধি, সামাজিক সুরক্ষা বিধি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি। সরকারের লক্ষ্য ছিল শ্রম আইনকে সহজ করা, নিয়মকানুন আধুনিক করা এবং শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সারা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মোট ১ হাজার ৪৫৯টি সংস্থার মতামতের ভিত্তিতে এই সমীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নতুন শ্রম বিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে মাত্র ৪০ শতাংশ সংস্থা নিজেদের পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। ২২ শতাংশ সংস্থা আংশিক প্রস্তুতির কথা বলেছে, ১৭ শতাংশ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ২১ শতাংশ সংস্থা এখনও কোনও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪৬ শতাংশ সংস্থা এখনও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বেতন কাঠামো এবং নিয়ম মানার প্রক্রিয়ায় কোনও সংগঠিত ঘাটতি বিশ্লেষণ শুরু করেনি। মাত্র ১৮ শতাংশ সংস্থা এই কাজ সম্পূর্ণ করেছে। ২১ শতাংশ সংস্থা বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং ১৫ শতাংশ সংস্থা এখনও পরিকল্পনার পর্যায়ে আছে। ফলে অনেক সংস্থার আত্মবিশ্বাস থাকলেও বাস্তব প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এখনও ফাঁক রয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, নতুন মজুরি বিধিই কর্মসংস্থানের কাঠামোতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রায় ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, এই বিধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। নতুন মজুরি সংজ্ঞা অনুযায়ী বেতন কাঠামো পুনর্গঠন এবং নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে, যা সংস্থাগুলির ব্যয় কাঠামোকেও প্রভাবিত করবে।
এছাড়া ৩৯ শতাংশ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের বেতন কাঠামো ইতিমধ্যেই নতুন মজুরি বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে অবশ্য অধিকাংশ সংস্থা আশাবাদী। প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, নতুন শ্রম বিধি ভারতে কর্মসংস্থানকে আরও আনুষ্ঠানিক ও নিয়মতান্ত্রিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এই প্রসঙ্গে সংস্থার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক RP Yadav বলেন, নতুন শ্রম বিধি সংস্থাগুলির জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করছে। বেতন কাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং কর্মী নিয়োগের ধরনে আগেভাগে পরিবর্তন আনতে পারলে সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছতে পারবে।






