কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা বিতর্ক ও অপব্যবহারের খবর প্রায়ই সামনে আসে। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে এবার সামনে এসেছে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। সেখানে এক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নিজের অসুস্থ কুকুরের জন্য একটি বিশেষ প্রতিষেধক তৈরি করেছেন। চিকিৎসকদের মতে, তখন কুকুরটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল মাত্র কয়েক মাস।
অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ পল কনিংহ্যাম একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাঁর কুকুর রোজি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর জীবনের সঙ্গী। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়, ব্যবসায়িক চাপ কিংবা প্রতিদিনের জীবনের নানা মুহূর্তে রোজি ছিল তাঁর পাশে। তাই কুকুরটির শরীরে মারাত্মক অসুখ ধরা পড়ার পর তাকে বাঁচানোর জন্য সব রকম চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, রোজির শরীরে একটি টিউমার তৈরি হয়েছে। এর পরই সমস্যার সমাধান খুঁজতে পল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে তিনি একটি চিকিৎসা পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের রামাচিওট্টি জিনতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যেখানে রোজির টিউমারের ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়।
টিউমার থেকে সংগৃহীত কোষের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে সেটিকে তথ্যের রূপে রূপান্তর করা হয়। এরপর সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে জিনগত পরিবর্তন বা সমস্যার উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। পলের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি তাঁকে তথ্য বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজে বের করতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছে।
বিপুল পরিমাণ জিনগত তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি বিশেষ ধরনের এমআরএনএ ভিত্তিক প্রতিষেধকের নকশা তৈরি করা হয়। এই প্রতিষেধকটি রোজির শরীরে থাকা ক্যানসারের কোষের বিরুদ্ধে কাজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।

তবে প্রতিষেধক তৈরির কাজ শেষ হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া ছিল সবচেয়ে কঠিন ধাপ। পলের কথায়, কুকুরটির ওপর পরীক্ষামূলক চিকিৎসা চালানোর অনুমতি পেতে তাঁকে প্রায় একশো পাতার একটি বিস্তারিত নথি তৈরি করতে হয়েছে এবং প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা সময় দিতে হয়েছে এই প্রক্রিয়ায়।
অবশেষে গত বছরের বড়দিনের সময় রোজির শরীরে সেই চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়। পরে জানা যায়, চিকিৎসার পর কুকুরটির টিউমারের আকার প্রায় অর্ধেক কমে গেছে।
এই ঘটনা প্রযুক্তি ও চিকিৎসা মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ব্যক্তিগতভাবে তৈরি প্রতিষেধক ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। যদিও এ ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির নিরাপত্তা ও নৈতিক দিক নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।







