বাংলা চলচ্চিত্র জগতে সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেক জনপ্রিয় অভিনেতা এখন শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ থাকছেন না, বরং পরিচালনা ও প্রযোজনার ক্ষেত্রেও নিজেদের যুক্ত করছেন। চলচ্চিত্র মহলের মতে, এর ফলে টলিউডে (Tollywood) নতুন ধরনের গল্প ও নির্মাণভঙ্গির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
এই প্রবণতার অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পরিচালনার দায়িত্বও নিয়েছেন। তাঁর পরিচালিত ছবির মধ্যে রয়েছে ‘জিও কাকা’ এবং হাওয়া বদল। এই ছবিগুলিতে ভিন্ন স্বাদের গল্প এবং উপস্থাপনা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
একইভাবে অরিন্দম শীল প্রথমে অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও পরে পরিচালনা ও প্রযোজনার ক্ষেত্রে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর পরিচালনায় তৈরি হয়েছে ‘এবার শবর’, ‘আসছে আবার শবর’ এবং ‘মিতিন মাসি’। বিশেষ করে রহস্যভিত্তিক এই ছবিগুলি দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল।
টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা দেব (Dev) অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর প্রযোজনায় তৈরি হয়েছে ‘চ্যাম্প’, ‘কবীর’ এবং গোলন্দাজ-এর মতো বহু সিনেমা। বড় পরিসরের গল্প ও ভিন্ন ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করার চেষ্টা তাঁর প্রযোজিত ছবিগুলিতে স্পষ্ট।
অন্যদিকে থিয়েটার ও চলচ্চিত্র দুই ক্ষেত্রেই পরিচিত মুখ অনির্বাণ ভট্টাচার্য অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনায়ও আত্মপ্রকাশ করেছেন। তাঁর পরিচালনায় নির্মিত ‘বল্লভপুরের রূপকথা’ দর্শক ও সমালোচক মহলে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে।
টলিউডের অন্যতম অভিজ্ঞ তারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) দীর্ঘদিন ধরেই প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর প্রযোজনায় তৈরি হয়েছে উড়নচণ্ডী (২০১৮), শঙ্খচিল (২০১৬), নিরন্তর (২০২০), মহালয়া। নতুন প্রজন্মের পরিচালক ও গল্পকে সামনে আনার ক্ষেত্রেও তাঁর প্রযোজনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এছাড়া টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা জিৎ-এর প্রযোজনায় বুমেরাং (২০২৪), চেঙ্গিজ (২০২৩), রাবণ (২০২২), আয় খুকু আয় (২০২২), সুলতান: দ্য সেভিয়ার (২০১৮), বস ২ (২০১৭) সিনেমাগুলিও দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছে সাম্প্রতিককালে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, অভিনেতাদের এই প্রবণতার পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। দীর্ঘদিন অভিনয়ের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক অভিনেতার মধ্যেই গল্প বলার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। পরিচালনা বা প্রযোজনার মাধ্যমে তাঁরা সেই ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পান। পাশাপাশি নতুন মাধ্যমের বিস্তার এবং দর্শকের রুচির পরিবর্তনও এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করেছে।
তবে অভিনয় থেকে পরিচালনা বা প্রযোজনায় আসা সহজ পথ নয়। গল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে নির্মাণের বিভিন্ন দিক, অর্থব্যবস্থা এবং পুরো দলকে পরিচালনা করার মতো নানা দায়িত্ব নিতে হয়। তবু অনেক অভিনেতা এই নতুন ভূমিকায় নিজেদের পরীক্ষা করতে আগ্রহী।
চলচ্চিত্র মহলের একাংশ মনে করছেন, অভিনেতাদের এই অংশগ্রহণ বাংলা চলচ্চিত্রের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা এবং নির্মাণের নতুন ভাবনার মিলনে ভবিষ্যতে বাংলা সিনেমায় আরও বৈচিত্র্য দেখা যেতে পারে।








