দীর্ঘদিনের ডিএ মামলা ঘিরে আবারও নতুন তথ্য সামনে এল।
Dearness Allowance Case: রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের বকেয়া ডিএ নিয়ে চলা মামলায় এবার বিশেষ একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। এই পোর্টালে কর্মীদের নিজেদের সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করতে হতে পারে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া রাজ্যের আবেদনে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বকেয়া ডিএর সঠিক হিসাব তৈরি করতে পুরনো তথ্য ডিজিটালভাবে সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারির আদালতের নির্দেশকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার একটি মডিফিকেশন আবেদন জমা দিয়েছে। তবে সেই আবেদনে আদালতের নির্দেশ বাতিল করার দাবি করা হয়নি। বরং বকেয়া অর্থ মেটানোর জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে।
রাজ্যের যুক্তি অনুযায়ী, ডিএর বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা অর্থনৈতিক। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় যে ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট পেশ করা হয়েছিল, সেখানে এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া মেটানোর মতো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি।
সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের সময় এই বকেয়া হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
এর আগে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, অবিলম্বে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ এবং বাকি অংশের প্রথম কিস্তি কর্মচারীদের দিতে হবে। সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলাও হয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য রাজ্য সরকার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় চেয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের দাবি, বকেয়া হিসাব করতে গিয়ে একটি বড় প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। জানা গেছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৫৪ জন কর্মী ও পেনশনার বকেয়া পাওয়ার যোগ্য।
২০১৬ সালের পর থেকে কর্মীদের বেতনের তথ্য অনলাইনে সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বেতন সংক্রান্ত তথ্য এখনও সার্ভিস বুকে হাতে লেখা অবস্থায় রয়েছে।
এই পুরনো তথ্য ডিজিটালভাবে সংগ্রহ করার জন্যই নতুন একটি অনলাইন পোর্টাল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পোর্টাল চালু হলে কর্মীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জমা দিতে হবে। তার মধ্যে থাকবে সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা এবং নিজের বেসিক পে সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া।
এছাড়াও নিরাপদ লগইন ব্যবস্থার জন্য ওটিপি এবং ইমেল ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা রাখা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, ৭ মার্চের মধ্যে পোর্টালের কারিগরি পরীক্ষা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে।
বকেয়া ডিএ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি গ্রুপ ডি কর্মীদের নগদে বকেয়া দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে রাজ্য সরকারের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এই অর্থ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করার সম্ভাবনাও রয়েছে।






