মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধের প্রভাব এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে কাঁচা তেলের বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে।
আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইরানের সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রুড অয়েলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। দীর্ঘ সময় পর আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে।
সোমবার বাজার খোলার পর Brent Crude এর দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১১৫ ডলার প্রতি ব্যারেলেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে WTI Crude এর দামও প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ১১২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে Murban Crude প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২০ ডলার প্রতি ব্যারেলের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তীব্র বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
সংঘাতের কারণে অনেক তেল উৎপাদক দেশ সরবরাহ বন্ধের সতর্কবার্তা দিয়েছে। কাতার ও কুয়েতের মতো দেশ থেকেও সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই রুটে বাধা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অনেক দেশে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তানে ইতিমধ্যেই পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ৩৩৬ পাকিস্তানি রুপি এবং ডিজেলের দাম ৩২১ রুপি ছুঁয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের উপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশেও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। সেখানে সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে, যাতে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি জ্বালানি কেনা সম্ভব না হয়।
ভারতের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ দেশটি তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে এর প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির উপর পড়তে পারে।






