হঠাৎই বদলে গেল ক্ষমতার সমীকরণ। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী।
প্রধানমন্ত্রী পদে বসেই Tarique Rahman সামরিক প্রশাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগে যাতে ভবিষ্যতে কোনও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই সেনাবাহিনীর কাঠামোয় আনা হয়েছে রদবদল।
দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে পদোন্নতি দিয়ে ঢাকায় ফেরানো হয়েছে। মহম্মদ হাফিজুর রহমানকে উন্নীত করা হয়েছে মেজর জেনারেল পদে। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, এই পদক্ষেপ কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে সবচেয়ে বেশি নজর ছিল সেনাপ্রধান পদে। শেষ পর্যন্ত ওয়াকার-উজ-জামানকেই দায়িত্বে বহাল রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয়। ২০২৪ সালে হাসিনা ক্ষমতায় ফেরার পরই তাঁকে সেনাপ্রধান করা হয়েছিল।
ওয়াকার-উজ-জামানের পেশাগত জীবন যথেষ্ট উজ্জ্বল। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর দেশে ফিরে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলে শীর্ষ পদে পৌঁছন তিনি।
তবে ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁর ভূমিকা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের ঘটনাতেও সেনাবাহিনীর অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ায়। সে সময় এক সাংবাদিক বৈঠকে সেনাপ্রধান দাবি করেছিলেন, আন্দোলনকারীদের উপর সেনা গুলি চালায়নি।
পরবর্তী সময়ে নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তখনও সেনাপ্রধান পদে ছিলেন ওয়াকার-উজ-জামান। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও সেনাবাহিনীর শীর্ষপদে পরিবর্তন হয়নি।
আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ মনে করছে, অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিতেই এই সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক পালাবদলের মাঝেও সেনাপ্রধানকে বহাল রাখা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও সামরিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।






